প্রথম নারী হিসেবে ফিফার রেফারি হলেন জয়া চাকমা ও সালমা

fec-image

বাংলাদেশের প্রথম মহিলা হিসেবে ফিফার রেফারি হলেন দুই প্রাক্তন মহিলা ফুটবলার জয়া চাকমা ও সালমা ইসলাম মনি। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ফিফার তালিকাভুক্ত হবেন তাঁরা। তখন থেকেই ফিফা আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন বাংলাদেশের এই দুই মহিলা রেফারি।

গতকাল শুক্রবার খবরটি নিশ্চিত করে ফিফা। এখন থেকে ফুটবলের বিশ্ব সংস্থাটি আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন তারা।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারিজ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম নেসার জানান, জয়া চাকমা এবং সালমা ইসলাম মনি দুইজনই এবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এখন তাদের নাম পাঠিয়ে দেব ফিফায়। আগামী বছর জানুয়ারি থেকে ফিফার তালিকাভুক্ত হয়ে যাবেন তারা।

খেলা ছেড়ে ২০১০ সাল থেকে ফুটবল মাঠে ম্যাচ পরিচালনা করছেন রাঙ্গামাটির মেয়ে জয়া চাকমা। তবে তা ঘরের মাঠে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে। অপরদিকে ২০১৩ সাল থেকে রেফারি হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করছেন সালমা। অবশেষে আন্তর্জাতিক ম্যাচে পরিচালনার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে তাদের।

শুক্রবার গণমাধ্যমকে জয়া নিজেই শোনালন সেই গল্প, ‘২০১৩ সালে যখন বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করতে প্রথম শ্রীলঙ্কা যাই, সেখানে গিয়ে দেখি বিভিন্ন দেশের মহিলা রেফারিরা আছেন। কিন্তু আমাদের দেশে সেভাবে কেউ উঠে আসছে না। তখন থেকেই নিজের মধ্যে জিদ চেপে বসে। আমাকে যে করেই হোক সাফল্যের চূড়ায় যেতে হবে। তখন থেকেই ফিফা রেফারি হওয়ার জন্য সাধনা করে যাচ্ছিলাম। অবশেষে ফিফা রেফারি হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’

জয়া চাকমা (ডানে) ও সালমা ইসলামদক্ষিণ এশিয়ায় চারজন নারী ফিফা রেফারি আছেন। ভারতের দুজন এবং নেপাল ও ভুটানের একজন করে। জয়া পঞ্চম হিসেবে তালিকায় নিজের নাম দেখতে চাইছেন, ‘ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের ফিফা রেফারি থাকতে পারলে আমাদের দেশ থেকে কেন থাকতে পারবে না? আমি তো মনে করি আমাকে দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে। মেয়েদের ফুটবল কিংবা রেফারিং আরও এগিয়ে যাবে। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে মূলধারার ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করব, এটা তো গর্বের বিষয়। এছাড়া মহিলা ফুটবলে রেফারিংয়ের কথা উঠলেই তখন আমার নাম সবার আগে আসবে। এটা চিন্তা করতেই অনেক ভালো লাগছে।’

রাঙামাটির মেয়ে জয়া টানা চার বছর বয়সভিত্তিক ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলেও খেলেছেন। এছাড়া ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিজেএমসির হয়ে ঘরোয়া ফুটবলে খেলেছেন। এই সময় রেফারিংয়ের পাশাপাশি নাম লেখান কোচিংয়েও।

এএফসির বয়সভিত্তিক আসর ছাড়াও ঘরোয়া ফুটবলে বাঁশি বাজানোর অভিজ্ঞতা আছে তার। একই সঙ্গে চলেছে কোচিং কোর্সের কাজও। এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স করে এখন বিকেএসপির মেয়েদের কোচ জয়া। সেখানেও পেয়েছেন সাফল্য। তার অধীনে গত নভেম্বরে ভারতে সুব্রত মুখার্জি আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিকেএসপির মেয়েরা জিতেছে শিরোপা।

জয়া এককথায় অলরাউন্ডার। খেলার সঙ্গে লেখাপড়াও চালিয়ে গেছেন পুরোদস্তুর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে করেছেন মাস্টার্স। ডিপ্লোমা আছে স্পোর্টস সায়েন্সের ওপরও।

এবার তার সঙ্গে যোগ হতে চলেছে ফিফা রেফারির তকমা। ফিফা রেফারির ব্যাজ হাতে পেলেই এএফসির এলিট প্যানেলের জন্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবেন জয়া। সব বাধা ডিঙানোর শপথ নিয়েছেন ‘পাহাড়ি কন্যা’। লক্ষ্য যে তার বহুদূর যাওয়ার!

 

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: জয়া চাকমা ও সালমা, প্রথম নারী, ফিফার রেফারি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 2 =

আরও পড়ুন