প্রধানমন্ত্রীর টার্গেট বাস্তবায়নে পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছানো হবে: পার্বত্যমন্ত্রী

fec-image

প্রধানমন্ত্রীর টার্গেট বাস্তবায়নে পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছানো হবে বলে জানিয়েছেন  পার্বত্যমন্ত্রী বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

শুক্রবার( ৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর টার্গেট ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যে পার্বত্য জেলায় ৫শ ৬৫কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোনাইছড়ির মানুষের ঘরে ঘরে আলো পৌছে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি দূর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয় সেখানে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ১০হাজার ৮শ সৌর বিদ্যুত দেওয়া হয়েছে। তিন জেলার জন্য আরও ৪০হাজার সৌর বিদ্যুত প্রয়োজন।

এসময় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২১কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নব নির্মিত সোনাইছড়ি ইউপি ভবনসহ ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

উদ্বোধনী প্রকল্পগুলো হলো-সোনাইছড়িতে এলজিইডি এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে তুমব্রু সড়কের ৪টি ব্রীজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
পাকা রাস্তা নির্মাণ ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।

এছাড়াও তিনি উদ্বোধন করেন পার্বত্য বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, যাত্রী ছাউনি, বৌদ্ধ বিহার এবং বৌদ্ধ বিহারের মহিলা সাধনা ঘর, (জিএফএস) পানি লাইন এবং মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতিশ্রুত বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ বিতরণ করেন।

উদ্বোধনের সময় বান্দরবান অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক বদিউল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুদ্দুস ফরাজি, সহকারী পুলিশ সুপার রেজাওয়ান ইসলাম, পার্বত্য চট্রগ্রম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াছির আরাফাত, বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি জিল্লুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী পার্বত্য জেলাপরিষ মাহাবুবুর রহমান, বান্দরবান সদর পৌরসভা মেয়র ইসলাম বেবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুতেন আলো ও নতুন ইউনিয়ন পরিষদ পেয়ে পার্বত্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যানিং মারমা বলেন, ভৌগলিক অবস্থায় রামু, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের সীমান্ত লাগোয়া সোনাইছড়ি ইউনিয়নের প্রায় সকলেই কৃষি কাজ করেন। প্রায় সময় এখানকার বিভিন্ন গ্রামে বন্য হাতির আক্রমন হতো। শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতো কুপি বাতিতে। যারা একটু স্বচ্ছল তারা এই সমস্যার জন্য গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। অবশেষে পাহাড়ি এই ইউনিয়নে সাফল্য এনে দিয়েছেন পার্বত্যমন্ত্রী।

এদিকে বক্তব্যে শেষে পার্বত্য মন্ত্রী সদর ইউনিয়নের রেস্ট হাউসে প্রশিক্ষিত মৎস্য চাষী ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে পোনা বিতরণ বিতরন করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 17 =

আরও পড়ুন