প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক : খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে এ কিসের আলামত

fec-image

খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে রবিবার(২০ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এ কারণে সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক একটু ব্যস্ত থাকার কথা ছিল। তবে এতোটা ব্যস্ত হবে কেউ ভাবেনি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ সড়কের ব্যস্ততা রেকর্ড ভেঙ্গে যায়। মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীর কর্ম-সমর্থকদের স্রোতের কারণে এ সড়কে অন্যান্য দিনের চেয়ে মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ঘটনা অন্য জায়গায়।

আইন না মানার প্রবণতা। আর তা হচ্ছে নির্বাচনী আচরণবিধি। খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়পত্র দাখিলের সময় কোন প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি মানেননি। বিশেষ করে এ দিন মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিআওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শো-ডাউন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন নির্বাচনী আচরণবিধি। যার ফলে এ সময় জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয় জেলা নির্বাচন অফিস থেকে শুরু করে শাপলা চত্বর পর্যন্ত সড়ক ব্যবহারকারীদের। তবে এ নিয়ে রিটার্নিং অফিসার ছিলেন নির্বিকার। ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন (১৬ জানুযারি) পর্যন্ত কি হবে এ নিয়ে শংকায় সচেতন মহল।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর পৌর নির্বাচনে আচরণবিধির ১১ এর ১ এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল, মিটিং ও শো-ডাউন করা যাবে না উল্লেখ রয়েছে। তবে খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যেসব মেয়র প্রার্থীরা মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন তাদের সবাই দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে শো-ডাউন, মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। করেছেন আচরণ চরম বিধি  লঙ্ঘন।

রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে কলাবাগানের মিল্লাত চত্বর থেকে শতাধিক নেতাকর্মীর মোটরসাইকেলের বহর ও দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আসেন। তার কিছুক্ষন পরে দুপুর ১২ টায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল সহকারে।

এ সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের শো-ডাউনে নারিকেল বাগানস্থ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘ যানজটে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে ফেরার সময়ও শো-ডাউন করতে করতে শাপলা চত্বরের দিকে আসতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের। দুপুর আড়াইটার দিকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। পৌরসভা কার্যালয় থেকে সমর্থকদের নিয়ে পায়ে হেঁটে শো-ডাউন করে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান রফিকুল আলম ও তাঁর অনুসারীরা। বিকেল ৫টার কিছু আগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খাগড়াছড়ির সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে কমিশন ও প্রশাসনের যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনি ভাবে প্রার্থীদেরও দায়িত্ব রয়েছে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখা। আচরণবিধির বিষয়ে প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আরও নজরদারি রাখতে হবে।

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ জানান, মনোনয়নপত্র দাখিল করতে এসে প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন সে বিষয়ে শুনেছি। কিন্তু মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ৫ জনের অধিক কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

সচেতন মহলের মতে, শুরুতে হয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এখনি ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

খাগড়াছড়ি পৌরসভায় মোট ভোটার ৩৭ হাজার ৮৭ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ হাজার ৩৫১ জন ও নারী ভোটার ১৬ হাজার ৭শ৩৬। খাগড়াছড়ি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্র ১৮ আর বুথ ১০৯টি।খাগড়াছড়ি পৌরসভায় মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। নির্বাচন হবে আগামী ১৬ জানুয়ারী।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আওয়ামী লীগ, খাগড়াছড়ি, নির্বাচন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − two =

আরও পড়ুন