parbattanews

ফজল হোসাইন: এক পরীক্ষিত গুপ্ত

সব গুপ্ত দেশ ও জাতির জন্য হুমকি নয়। বরং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত ও অক্ষুন্ন রাখতে দেশপ্রেমিক গুপ্তরা অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম। ভারতের সদ্য প্রয়াত ফজলে হোসাইন দেশটির এমনই এক পরীক্ষিত গুপ্ত ছিলেন। যিনি ২২ এপ্রিল উত্তরাখণ্ডে ৬২ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এই আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সেনার সম্পর্কও আরও দৃঢ় হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সেনার রাষ্ট্রীয় রাইফেল ব্যাটালিয়ন এই পুরো অনুষ্ঠানটির দায়িত্ব নেয়।

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্যে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হল সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম ফজল হুসেন তাহির চৌধুরীকে। তিনি একাধিক অপারেশনে ভারতীয় সেনাকে সাহায্য করেছেন। জঙ্গিদের খোঁজ দিয়ে তাদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ভারতীয় সেনা বাহিনীকে সাহায্য করতেন তিনি।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফজল হুসেন ছিলেন ২০০৩ সালের বিখ্যাত অপারেশন শার্প বিনাশের সঙ্গে যুক্ত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যিনি পুঞ্চ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতীয় সেনার চর হিসেবে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জঙ্গিদের হাতে নিজের ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তিনি সৌদি আরবের লাভজনক চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন এবং স্থানীয় গুজ্জর-বাকারওয়াল সম্প্রদায়কে সংগঠিত করে প্রথম ‘ভিলেজ ডিফেন্স কমিটি’ (VDC) গঠন করেন।

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় পুঞ্চ এবং আশপাশের এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্তরে তথ্য ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই জায়গাতেই ফজল হুসেনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর সাহসিকতা এবং নিষ্ঠা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য এনে দিয়েছিল।

মুররাহ গ্রামে অনুষ্ঠিত তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ভারতীয় সেনা পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যাতে যথাযথ সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে তাঁর শেষ বিদায় সম্পন্ন হয়। সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে, যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয় এবং সকলেই শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের একাংশ জানান, ফজল হুসেন শুধু একজন সহযোগীই নন, তিনি ছিলেন এলাকার একজন সাহসী ও দায়িত্ববান মানুষ, যিনি নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে সমাজের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর এই অবদান আগামী প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তাঁরা।

ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়, দেশের নিরাপত্তা এবং শান্তি বজায় রাখতে যাঁরা নিঃশব্দে অবদান রাখেন, তাঁদের সম্মান জানানো সেনাবাহিনীর দায়িত্ব। ফজল হুসেন তাহির চৌধুরীর মতো মানুষদের আত্মত্যাগ কখনও ভোলার নয়। তাঁদের কাজই সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইকে শক্তিশালী করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ জাগিয়ে তোলে।

এই আয়োজন শুধু একটি শেষকৃত্য নয়, বরং এক সাহসী মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, সেনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

Exit mobile version