ফরম পূরণের টাকা ফেরত পায়নি পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা

fec-image

দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা ফেরত পায়নি পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।গত ৪ নভেম্বর ২০২১ ইং তারিখে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামাল উদ্দিনের স্বাক্ষরিত পত্রে ২০২১ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারীদের ফরম ফিলামের টাকা ফেরত প্রদানের নির্দেশনা জারী করা হয়। যার স্মারক নং ছিল বামাশিবো/দাখিল পরীক্ষা ২০২১/৫৩৬।

তবে পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অভিভাবকদের দাবী তারা টাকা ফেরত পাননি। বরং ফরম ফিলাপের সময় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়াসহ প্রশংসাপত্র নিতে গেলেও দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। মাদ্রাসা অধ্যক্ষ টাকা ফেরত না দিয়ে সরকারী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছে বলে অভিভাবকদের দাবী।

পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম এই নির্দেশনার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে এই প্রতিবেদককে জানান। এই ব্যাপারে পানছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অরুপ চাকমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা তো ফেরত দেয়ার কথা। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. মাইনউদ্দিন বলেন, অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান টাকা ফেরত দিয়েছে কিন্তু মাদ্রাসা যে টাকা ফেরত দেয় নাই তা তো আমরা জানিনা। এই ব্যাপারে অভিভাবকদের অভিযোগ নিয়ে পাঠানোর কথা বলেন।

খাগড়াছড়ি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা এই ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান। জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ (মরহুম) মাওলানা মো. জাকির হোসাইন ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে নেমে আসে চরম দূর্গতি। বছরের পর বছর নাই কোন অডিট। পরিচালনা কমিটি গঠনে হয় না কোন নির্বাচন। অধ্যক্ষের ইচ্ছেমত তৈরী করে নিচ্ছে পরিচালনা কমিটি। সরকারী নির্দেশনা না মেনে মেয়াদ পূর্তির কয়েকমাস পেরুলেই নিজের পছন্দের লোক দিয়ে গঠন করে কমিটি। ফলে বছরের পর বছর ধরেই প্রাতিষ্ঠানিক অডিট অধরা। রাতের আধারে মাদ্রাসার ল্যাপটপ চুরি হলেও নিকটবর্তী থানায় করা হয়নি জিডি। থানায় জিডি না করায় চুরির ঘটনাটি রহস্যজনক বলে অনেকের দাবী।

গত ১৭ এপ্রিল রবিবার মাদ্রাসা চলাকালীন সময় দুপুর ১২টায় গিয়ে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে নেই কোন শিক্ষার্থী তবে পুরো ৩য় শ্রেণী জুড়ে দেখা গেছে মাত্র একজন (ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত আছে)। তাছাড়া ডাকা হয়নি ছাত্র হাজিরাও। এ ব্যাপারে মাদ্রাসা সুপার বলেন, ঈদের পরে অভিভাবকদের নিয়ে মিটিং করে উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করবো। মাদ্রাসায় একটি সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী ভুক্তভোগীদের।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 18 =

আরও পড়ুন