২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি ফেনীর মানুষ। এরই মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গত রবিবার (৫ জুলাই) এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ওই দুর্যোগে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানুষের দুর্ভোগের সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফিরছে জেলার বাসিন্দাদের। বিশেষ করে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীপাড়ের মানুষ সামান্য পানি বাড়লেই শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
পরশুরামের সাতকুচিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, গত বছরের বন্যায় তার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অনেক কষ্টে ঘর মেরামত করার পর আবারও বন্যার শঙ্কায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বন্যায় মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার অনেকগুলো এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি ঢলের চাপ এলে বাঁধগুলো টিকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিবছর উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী খনন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এদিকে, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনা খাবার মজুত এবং উদ্ধার কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি একসঙ্গে প্রবেশ করলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেনীসহ পাঁচ জেলার জন্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কতা জারি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
