বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ইমুর সংসারে নতুন ছানা

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ভিনদেশী পাখি ইমু’র পরিবারে নতুন একটি ছানা জন্ম নিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাখি ইমু’র ডিম ফুটে ছানার জন্ম নেওয়ার ঘটনা সাফারি পার্কে এবারই প্রথম।

প্রথম বারের মতো বাচ্চা পেয়ে বেষ্টনীতে থাকা স্ত্রী প্রজাতির দুটি এবং বিপরীত লিঙ্গের একটি ইমু পাখি বেশ খুনসুটিতে রয়েছে।

সাফারি পার্কের পুরো এলাকাজুড়ে বানরের বিচরণ থাকায় তাদের খপ্পড় থেকে রক্ষায় বাচ্চাটিকে ইমু পাখি চোখের আড়াল করছে না। প্রথম বার বাচ্চা, নতুন অতিথি নিয়ে মা-বাবার সাথে বেষ্টনীতে বেশ খোশ মেজাজে ঘুরাঘুরি উপভোগ করছে পার্কে আগত দর্শনার্থীরা। বড়দের চেয়ে আগত শিশুদের নজর কাঁড়ছে ইমু পাখির এই নতুন অতিথি। একই সঙ্গে পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, বনমোরগসহ অনেক বন্যপ্রাণীর প্রজনন অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন অনুপাতে বরাদ্দ না থাকায় এসব প্রাণীকে যথাযথ তদারকি করতে বেশ হিমসিম পড়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষরা।

পার্কটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম জন্ম নেওয়া বিরল প্রজাতির ভিনদেশি ইমু পাখির আগত অতিথিটির দেখভাল করার জন্য দুইজন কর্মচারীকে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখা হয়েছে। ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট রাজীব কুমার দে ও ড্রেসার দিদারুল আলম সার্বক্ষণিক পাহারায় রেখেছেন এই বাচ্চাটিকে। গত শনিবার ভোরে ইমু পাখির ডিম ফুটে বাচ্চা জন্ম নেন।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, পার্ক প্রতিষ্ঠার পর এই পার্কে একমাত্র ইমু পাখি ছিল একটি। এর পর বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই পার্কে আনা হয় আরও দুটি ইমু পাখি। বিপরীত লিঙ্গের একটি করে। এই দুইটি ইমু পাখি যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাড়ি থেকে জব্দ করা হয়েছিল।

ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট রাজীব কুমার দে জানান, ‘প্রতিবছরই ইমু পাখি ৭-৮টি করে ডিম পাড়ে। কিন্তু কোনবারই এসব ডিম থেকে প্রজনন করে বাচ্চা ফোটানো সম্ভব হয়নি। সব ডিমই নষ্ট হয়ে যায়। এবছর ৭টি ডিম পাড়ে ইমু পাখি। তন্মধ্যে একটি মাত্র ডিম থেকে একটি বাচ্চা ফোটাতে পেরেছে ইমু পাখি। বাকীগুলো নষ্ট হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো একটি হলেও বাচ্চা ফোটাতে পারায় তাদেরও বেশ আনন্দ লাগছে।’

সাফারি পার্কের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘পার্ক প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম ইমু পাখির ঘরে একটি নতুন অতিথি পেয়েছি। অনেক আগে থেকেই চেষ্টা ছিল আমাদের ইমু’র প্রজনন বাড়াতে। কিন্তু বার বার ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এতদিন প্রজনন সম্ভব হয়নি।’

মাজহার জানান, ‘ইমু পাখি সাধারণত ভিনদেশী প্রজাতির পাখি। এরা কলমি শাক, কঁচি শাক ও পাহাড়ি লতা-গুল্ম, কীট-পতঙ্গ, পোল্ট্রি ফিড, গম, ভুট্টা ও চাল ভাঙা খেতে অভ্যস্ত। পাখিদের মধ্যে বেশ শক্তিশালী। পানির কাছাকাছি ঝোপঝাড়মুক্ত উম্মুক্ত ঘাসভূমিতে এদের আবাসস্থল। ইমু পাখি ৫ থেকে সাড়ে ৬ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার হয়ে থাকে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক ইমুর ওজন ৩৮ থেকে ৬০ কেজি ও আয়ুকাল প্রকৃতিতে ৫ থেকে ১০ বছর এবং আবদ্ধ অবস্থায় এরা ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।’

পার্ক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘ইমু পাখি ঘন্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌঁড়াতে পারে। এদের পা দিয়ে লাথি বেশ চোট লাগে। এমনকি অনেক সময় মানুষও মারা যায়। তাই খুব সতর্কতার সাথে এদের পরিচর্যা করতে হয়। পার্কে আগত ইমুর ঘরের নতুন অতিথিকে বেশ পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলা হবে।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + one =

আরও পড়ুন