বাংলাদেশের আকাশে যখন অজানা বস্তু নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ঠিক তখনই ট্রাম্প প্রশাসন ইউএফও বা এলিয়েন সংক্রান্ত মার্কিন গোপন ফাইল প্রকাশ করে দিয়েছে। ৮ মে সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে ধুমকেতু সদৃশ এক দৃশ্য অবলোকন করে সবাই বিস্মিত। এটি ধুমকেতু, মিসাইল নাকি কৃত্রিম উপগ্রহ এ নিয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।
কিছুদিন পূর্বে ভারত তাদের ৬ হাজার কিলোমিটার পাল্লার প্রথম আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৬ পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি লাভ করেছিল। এটা সেই পরীক্ষা কিনা এখনো জানায়নি ভারত। এরই মধ্যে খবর এলো ট্রাম্প প্রশাসন এইমাত্র ইউএফও এবং ‘ভিনগ্রহী প্রাণ’ সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে – আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রশাসন এমনটি করল।
প্রথমবারের মতো পেন্টাগন অত্যন্ত গোপনীয় ইউএফও সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারণ করা একটি অত্যন্ত অদ্ভুত ভিডিওতে, একটি তারার মতো আকৃতির বস্তুকে আকাশে দ্রুত গতিতে আঁকাবাঁকা পথে চলাচল করতে দেখা যায়। কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারা বিশ্বের কাছে এটি একটি যুগান্তকারী, ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এ সকল উন্মুক্ত করা ফাইল এর মধ্যে রয়েছে প্রথম চন্দ্র অভিযানকারী এডুইন অলড্রিন, নিল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্সের কাছ থেকে পাওয়া নাসার অ্যাপোলো ১১-এর ইউএফও সম্পর্কিত প্রতিবেদন **অ্যাপোলো ১১-এর কারিগরি দলের ব্রিফিং — ৩১শে জুলাই, ১৯৬৯**
নিল আর্মস্ট্রং, অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্স চাঁদে যাওয়ার পথে তাদের মহাকাশযানের পাশ দিয়ে একটি রহস্যময় “উজ্জ্বলতর বস্তু” ঘুরতে ঘুরতে চলে যেতে দেখার বর্ণনা দিয়েছেন।
অলড্রিন: “আমরা হঠাৎ করে একটি উজ্জ্বলতর বস্তুকে পাশ দিয়ে যেতে দেখলাম… দেখতে একটি ফাঁপা সিলিন্ডারের মতো… এর একেবারে ভেতরটা দেখা যাচ্ছিল… খোলা বইয়ের মতো আকৃতি। এটা সত্যিই অদ্ভুত ছিল।”
অ্যাপোলো ১১ ছিল চাঁদে পাঠানো তৃতীয় মানববাহী অভিযান এবং চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারীদের অবতরণ করানো প্রথম অভিযান। এই নথিটি ১৯৬৯ সালের ৩১শে জুলাইয়ের অ্যাপোলো ১১ টেকনিক্যাল ক্রু ডিব্রিফিং (খণ্ড ১ এবং ২) থেকে নেওয়া একটি অংশ। নথিটিতে তিনটি পর্যবেক্ষণের উপর আলোকপাত করা হয়েছে: এক, চাঁদের দিকে যাত্রারত একটি বস্তু; দুই, কেবিনের ভিতরে আলোর ঝলকানি; এবং তিন, ফেরার পথে একটি উজ্জ্বল আলো দেখা, যেটিকে ক্রুরা প্রাথমিকভাবে একটি লেজার বলে ধরে নিয়েছিলেন।
• পৃষ্ঠা ৬-৩৩ (খণ্ড ১)। [অ্যাপোলো ১১-এর লুনার মডিউল পাইলট, বাজ অলড্রিন]: “আমরা প্রথম যে অস্বাভাবিক জিনিসটি দেখেছিলাম, আমার মনে হয় সেটি চাঁদ থেকে ১ দিনের দূরত্বে বা তার বেশ কাছাকাছি ছিল। এটির আকার বেশ বড় ছিল, তাই আমরা এর উপর মনোকুলারটি ধরলাম।” ক্রুরা অনুমান করেছিলেন যে এটি স্যাটার্ন ভি লঞ্চ ভেহিকলের এস-আইভিবি (S-IVB) স্টেজ হতে পারে।
• পৃষ্ঠা ৬-৩৭ (খণ্ড ১)। [অ্যাপোলো ১১-এর লুনার মডিউল পাইলট, বাজ অলড্রিন] “আমার করা অন্য পর্যবেক্ষণটি ধীরে ধীরে জমা হচ্ছিল। আমি জানি না প্রথম রাতে আমি এটি দেখেছিলাম কিনা, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে দ্বিতীয় রাতে আমি এটি দেখেছিলাম। আমি সব আলো নিভিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আমি কেবিনের ভেতরে ছোট ছোট আলোর ঝলকানির মতো কিছু একটা লক্ষ্য করলাম, যেগুলো মিনিট দুয়েক পরপর আসছিল…”
• পৃষ্ঠা ২১-১ (খণ্ড ২)। [অ্যাপোলো ১১-এর লুনার মডিউল পাইলট, বাজ অলড্রিন] “আমি বেশ উজ্জ্বল একটি আলোর উৎস লক্ষ্য করেছিলাম, যেটিকে আমরা প্রাথমিকভাবে একটি সম্ভাব্য লেজার বলে ধরে নিয়েছিলাম।”
এদিকে কংগ্রেস সদস্য আনা পাওলিনা লুনা এইমাত্র প্রকাশ করেছেন যে তিনি একটি SCIF-এ গোপনীয় প্রমাণ দেখেছেন, যেখানে “অমানবিক উৎস ও সৃষ্ট বস্তু” দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি এদের এলিয়েন বলি না। আমি আন্তঃমাত্রিক সত্তা শব্দটি ব্যবহার করি।” “আমি এমন প্রমাণ দেখেছি… যা আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে এমন কিছু জিনিস আছে যা আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না।” এর আগে তিনি ১৩ আগস্ট, ২০২৫-এ জো রোগানের সাথে একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে “মানবজাতি দ্বারা নির্মিত নয়” এমন যান এবং আন্তঃমাত্রিক ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
এদিকে বিস্ময়কর ভাবে একটি বৈশ্বিক জরিপ অনুসারে ভিনগ্রহের প্রাণীতে বিশ্বাসকারী শীর্ষ দেশসমূহের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র নেই। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারত, (৪৩%), সৌদি আরব (৩৮%), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৩৬%), থাইল্যান্ড (২৯%), কলম্বিয়া (২৬%), চীন (২৫%)।
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি হয়, তাহলে ২০২৬ সাল ভয়াবহ হতে চলেছে। কথিত আছে, বাবা ভাঙ্গা নামের অন্ধ বুলগেরীয় রহস্যবাদী ২০২৬ বছরটিকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় বছর হিসেবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এ বছর নিয়ে তিনি যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বলে মনে করা হয়, তা নিচে দেওয়া হলো:
• নভেম্বর ২০২৬ — একটি বিশাল ভিনগ্রহী মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে, যা ভিনগ্রহী প্রাণের সাথে মানবজাতির প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থাপন করবে। তিনি এটিকে এই অকাট্য প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে আমরা একা নই।
• ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ — শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা যা পৃথিবীর ৭ থেকে ৮ শতাংশ স্থলভাগের গঠন পরিবর্তন করবে বা ধ্বংস করে দেবে।
• ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংঘাত — পূর্বে একটি বড় যুদ্ধ বা একাধিক সংঘাতের সূত্রপাত এবং তা ছড়িয়ে পড়া, যা বিশ্বশক্তির ভারসাম্যে নাটকীয় পরিবর্তন আনবে।
• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উত্থান — সমাজ, অর্থনীতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধিপত্য শুরু হওয়া।
আমরা ইতিমধ্যেই রেকর্ড পরিমাণ তাপপ্রবাহ, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ ও বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত, উচ্চ পর্যায়ে ইউএফও/ইউএপি নিয়ে নতুন করে আলোচনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এলিয়েন সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেছেন, তাঁর অন্যতম নিদর্শন হল আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মাঝে যে সকল দাব্বাহ [জীবজন্তু] ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলো। তিনি যখনই ইচ্ছা এগুলোকে সমবেত করতে সক্ষম [সূরা আশ-শুরা: ২৯]।
কুরআনের আলোকে বলা যায়, সরীসৃপ, চতুষ্পদ জন্তু ও মানুষের মত দ্বিপদী প্রাণীকে দাব্বাহ বলা হয়। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরামগণ মনে করেন মহান আল্লাহ এলিয়েন বা আসমানী প্রাণীর কথা ইঙ্গিত করেছেন।
আমার ব্যক্তিগত ধারণা, দেশে ও বিদেশে ইরানের কাছে হার ও সমালোচনা লুকাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্ববাসীর কাছে গত ৬-৭ দশক ধরে অমীমাংসিত এবং বহুল আলোচিত ও আকাঙ্ক্ষিত ফোল্ড উন্মোচন করলেন। আগামী কয়েক দিন বিশ্বের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এলিয়েন নিয়ে আলোচনায় বুঁদ হয়ে থাকবে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বিশ্লেষক।
