বাঘাইছড়িতে পিআইও কার্যালয়ে ঢুকে ইউপি মেম্বারকে গুলি করে হত্যা

fec-image

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ইউপি মেম্বারকে গুলি করে হত্যা করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। বুধবার দুপুর ১২.৪৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউপি মেম্বারের নাম সমর বিজয় চাকমা(৩৮)। তিনি জেএসএস (এমএন লারমা) দলের সমর্থক। প্রতিপক্ষের গুলিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জানা গেছে, বুধবার উপজেলার ৩৪ নং রূপকারী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে র মেম্বার সমর বিজয় চাকমা প্রকল্পের চেক নিতে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে ২য় তলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা(পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের উপস্থিতিতে তার রুমে চেয়ারে বসা অবস্থায় দুই উপজাতীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার কক্ষে প্রবেশ করে সমর বিজয় চাকমার পিস্তল ঠেকিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এরপর সন্ত্রাসীরা উপজেলার মূল গেটে এসে আরো তিন রাউন্ড গুলি করে দ্রুত মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বুধবার বাঘাইছড়িতে হাটবার ছিলো। দিনের বেলার এ রকম গুলির শব্দে হাটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই এদিক ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে দেয়।

 

নিহত সমর বিজয় চাকমা উপজেলার পশ্চিম বালুখালী গ্রামের নির্মল কান্তি চাকমার পুত্র। সে জেএসএস সংস্কারের রাজনীতির সাথে জড়িত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

এদিকে ইউপি মেম্বার নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ২৭ বিজিবি সিও লে. কর্নেল আনোয়ার হোসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরিফুল ইসলাম ও পুলিশের এসআই আসাদ। সর্বশেষ খবরে তার লাশ ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রকাশ্য উপজেলা কার্যালয়ের মতো সুরক্ষিত এলাকায় বিশেষ করে যেখানে সর্বক্ষণ পুলিশ প্রহরা থাকে সেখানে সন্ত্রাসী ঢুকে ইউপি মেম্বারকে খুন করে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে পালিয়ে যাওয়া ও তাদের আটক করতে না পারার ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তবে ঘটনাস্থল দ্রুত বিজিবি পৌঁছে যাওয়া কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 4 =

আরও পড়ুন