বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারের ঘটনায় ওয়াদুদ ভূইয়া’র প্রতিবাদ :সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি

fec-image

বাঘাইছড়িতে সশস্ত্র গ্রুপের ব্রাশফায়ারের ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মারিয়াম আক্তার মনি স্বাক্ষরিক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, গত শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ির তালুকদার পাড়ায় উপজাতীয় দুই সশস্ত্র গ্রুপ জে এস এস (শন্তু) ও জে এস এস (এম.এন) লারমার মধ্যে ব্রাশফায়ারের ঘটনায় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং বর্তমানে ঐএলাকার পরিস্থিতি থমথমে। যার ফলে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পর্যটকদের মধ্যেও অস্বাভাবিক ভয়ভীতি জন্ম নিয়েছে। এতে করে পর্যটন কেন্দ্রগুলো
আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্মূখীন হয়ে পড়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলেন, শান্তিচুক্তি নামাক “অসম” চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে দিনদিন ক্রমাগতভাবে আইন শৃঙ্খলা চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং জনমনে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে। চুক্তির পূর্বে পার্বত্য এলাকায় শুধুমাত্র ১টি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ছিল, কিন্তু চুক্তির পর আজ ৪টি সশস্ত্র সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে এবং এই ৪টি সংগঠনই প্রতিযোগিতামূলকভাবে পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি, গুলি, ব্রাশফায়ার, হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, গুম ও মুক্তিপনের মতো কর্মকান্ড করেই চলেছে ফ্রি স্টাইলে।

তিনি বলেন, দেখে মনে হয় তারা যেন এ সকল অপকর্মের রামরাজত্ব কায়েম করেছে, যা দেখার কেউ নেই। গতকাল বাঘাইছড়ির তালুকদার পাড়ার ঘটনাটিও তারই অংশ বিশেষ।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাহাড়ে এমন অবৈধ অস্ত্রের ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর কতকাল চলবে? কতকাল পাহাড়ের মানুষ এমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে? পাহাড়ে আর কত
লাশ পড়বে? এই ব্যার্থতার দায় সরকারের।

ওয়াদুদ ভূইয়া আরো বলেন, আমি মনে করি চুক্তি বাস্তবায়নের নামে সেনা ক্যাম্পগুলো প্রত্যাহারের ফলেই এমন অপতৎপরতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনমনে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রত্যাহারকৃত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপন এবং সেনা টহল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বাহিনীসহ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 11 =

আরও পড়ুন