নতুন বাংলাদেশ গড়তে বান্দরবানকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ।
গতকাল ১৯ জুলাই রাতে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় এ আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ স্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, হাসনাত আব্দুলাহ, রাফিসহ বেশ ক’জন শীর্ষ নেতা বক্তব্য রাখেন।
আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, এমন একটা রাষ্ট্র চাই যে রাষ্ট্রে বহু ভাষা বহু সংস্কৃতির মিলন ঘটবে। সকল জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অধিকার প্রতি শ্রদ্ধার রাখার পাশাপাশি জাতিগোষ্ঠী সংস্কৃতি ঐতিহ্য অখন্ডততা রক্ষা হবে। সর্বোপরি বান্দরবানে কোনো জাতির পরিচয় ভিত্তিতে নিপীড়ন কিংবা বিভাজন মেনে নেয়া হবে না। প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে ইনসাফের উন্নয়ন পৌঁছে দিতে চাই। তাই আগামী দিনের সংসদে সকল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব উচ্চ কক্ষে নিম্নকক্ষে উভয়কক্ষে নিশ্চিত হবে।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বহু জাতিসত্তা রয়েছে যারা বাংলাদেশের যুগযুগ ধরে বসবার করে আসছে। ৭২ এর যে সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল সেই সংবিধানের সকল জাতিগোষ্ঠীর ও ধর্মকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে নাই। ফলে যে মুজিববাদী সংবিধান এই সংবিধান গোড়া থেকে ফ্যাসিস্ট সংবিধান ছিল বলে রাষ্ট্র ও সমাজে বিভাজন করে রাখা হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই বিভাজন দূর হয়েছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।
ঁ
এনসিপি নেতা রাফি বলেন, যারা দিল্লি পালিয়ে গেছেন তাদেরকে কাঠ গড়ায় দাঁড় করাবো। যারা দেশের মানুষ ভাই-বোনদের মেরেছে তাদেরকে কাঠ গড়ায় দাঁড়াতেই হবে। আমরা বিচার ও সংস্কারে একমত বিচার এবং সংস্কারের পরে নির্বাচন’ এর আগে তথাকথিত নির্বাচন চাই না।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বান্দরবানে যে শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে,সেই শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতি না করে গত ১৫ বছর ধরে নিজেদের পকেট ভরাতে বান্দরবানবাসীদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখেছে। বর্তমানে এই জেলার জনগোষ্ঠীর সমস্যা রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি সরকার গঠন করি আমরা সকলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন কাঠামো তৈরি করে বান্দরবান ও পাশ্ববর্তী জেলা রয়েছে প্রতিটি সমস্যার সমাধানে আমরা সংবিধানে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করব। নতুন বাংলাদেশ গড়তে বান্দরবানকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানান নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।
দক্ষিনাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুলাহ বলেন, বান্দরবানে বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার মিলন ঘটলেও দু:খজনক বিষয় যে সেটির সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাননি। বাংলাদেশের সংবিধান যদি লক্ষ্য করি সেখানে বাহাত্তর পরিবর্তিতে বিভিন্ন জাতিসত্ত্বাকে স্বীকৃতি না দিয়ে সবাইকে বাঙালি বানানোর অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তাই পাহাড়ের যেসব সমস্যাগুলো রয়েছে সেসব সমস্যাগুলো আলোচনার মধ্যদিয়ে সমাধান হোক। এসময় নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বেলা তিনটার থেকে বান্দরবানে এনসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয় সমাবেশ স্থল। এছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাত ৮ টায় সমাবেশে যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, বান্দরবান এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল ইসলাম সোহেলসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।
