বান্দরবানের উজিপাড়ায় গ্রাউস কর্মকর্তারা জবরদখল করেছে ১৫০একর পাহাড়ি ভুমি

dokal-cc

জমির উদ্দিন:

বান্দরবানের বালাঘাটা মৌজার উজিপাড়া এলাকায় তিন এনজিও কর্মকর্তা ও তার দোসরদের সহয়তায় ৫০টি মারমা পরিবারের বন্দোবস্তিু ও ভোগদখলীয় প্রায় ১৫০ একর পাহাড়ি ভুমি জবরদখল করে নিয়েছে। তারা ওই উজিপাড়া গ্রামটিও দখলে নেওয়ার নানা অপচেষ্টা চালাছে। এঘটনায় এলাকাজুড়েই চাপা উত্তেজনা ও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গ্রামবাসী ও জবরদখলকারী চক্রের লোকজনের মধ্যে যেকোন সময় সংঘর্ষ ঘটার আশংকাও দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে পাহাড়ি ভুমির ক্ষতিগ্রস্ত মারমা পরিবারদের পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য পুকোয়াই মং মারমা অভিযোগে বলেন, তার পিতার নামীয় ১০একরের সেগুন ও গামারী বাগানসহ (১৪/১৫বছর বয়সী) পাহাড়ি জমি গ্রাউস ভাইস চেয়ারম্যান মং থুই চিং, নির্বাহী পরিচালক চাইসিং মং মারমা গ্রাউস কর্মকর্তা চিম্ময় মুরং জবরদখল করে সেখানে পাকা পিলার গেড়ে দিয়েছে। একই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত প্রু থোয়াই মারমার ৫একর, হ্লাথোয়াই মারমার ৫একর, অংচিং সা মারমার ৫একর, মংপ্রুথুই মারমার ৫একর,উক্যসিং মারমার ৫একর, ,সাদো অং মারমার ৫ একর,চথুই মারমার ৫একর, ছোহী মং মারমার ৫একর,রেদামং মারমার ৫একর এবং মংখ্য মারমার ৫একর ভোগদখলীয় ও বন্দোবস্তিকৃত পাহাড়ি জমি জবরদখল করেছে ওই চক্র।

জানা গেছে,বান্দরবানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাউসের নির্বাহী পরিচালক ও তার সহযোগীরা গত বছর থেকেই ভুমি দস্যুতা কর্মদিব্যি চালিয়ে গেলেও পাড়া প্রধান কারবারী, মৌজা হেডম্যান ও প্রভাবশালী মহল গ্রামবাসীদের কোন প্রকার সহযোগিতা করছে না। তারা উল্টো ওই গ্রাউস কর্মকর্তাদর পক্ষ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাউস এনজিও’র ওই কর্মকর্র্তা তার সংস্থার নামে উজিপাড়ার পাশের পাহাড় থেকে ২০একর জমি ক্রয় করেন সম্প্রতি। তিনি এ ২০একর জমি ছাড়াও পাড়াবাসীর ভোগদখলীয় ও বন্দোবস্তকরা প্রায় ১৫০ একর পাহাড়ি ভুমি জবরদখলে নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মারমারা আশংকা করছেন- এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের পাড়াটিও যেকোন সময় ওই চক্র জবরদখল করতে পারে। তারা নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়ছে।

প্রায় শতবছরের পুরানো এ উজিপাড়ার ৫০টি মারমা পরিবারের সদস্যরা তাদের সৃজিত সেগুন ও গামারী বাগানসহ শতাধিক একরের পাহাড়ি ভুমি জবরদখলকারীদের কাছ থেকে উদ্ধারের সহায়তা চেয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসন এবং সরকারের বিভিন্ন মহলে আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন। গত শুক্রবার উজিপাড়া এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনকালে ভুমিহারা পরিবারগুলো এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে। গ্রাউস কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের ভুমি দস্যুতার প্রতিবাদের এবং বেদখলে যাওয়া পাহাড়ি ভুমি উদ্ধারের দাবিতে জেলা শহরে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন উজিপাড়ার বাসিন্দারা।
বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পুর্বে বালাঘাটা মৌজার উজিপাড়া সংলগ্ন প্রায় ১৫০ একর পাহাড়ি ভুমি একই পাড়ার ৫০টি পরিবারের সদস্যরা প্রায় শতবছর ধরেই ভোগদখল এবং কোন কোন পরিবার বন্দোবস্তু গ্রহণ করে সেখানে চাষাবাদ এবং সেগুন- গামারী এবং ফলজ বাগান সৃজন করা ছাড়াও চাষাবাদ করে আসছেন। তারা এ পাহাড়ি ভুমি ব্যবহার করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসলেও এনজিও গ্রাউসের নির্বাহী পরিচালক চাইসিং মং গং সেই ভুমি জবরদখল করে সেখানে টিনের চালা দিয়ে ৪/৫টি আস্তানা গেঁড়েছে,এনজিও গ্রাউস মার্কা দিয়ে পাকা পিলারও বসানো হয়েছে।

এ ভুমি বন্দোবস্তি ও ভোগদখলে থাকা বেশকজন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমুলক মামলা দেয়ায় পুরো পাড়ার মারমা পরিবারগুলোর মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানামুখি আতংক। ক্ষতিগ্রস্ত মারমা পরিবারগুলো অভিযোগ করেন, গ্রাউস এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক (ইডি)চাইসিং মং এর গং অবৈধ অর্থের বিনিময়ে মৌজা হেডম্যান ও পাড়া কারবারীকে তার পক্ষে নিয়ে পুরো গ্রামবাসীকে জিম্মি করে ফেলেছে। গ্রামবাসীদের বন্দোবস্তি ও ভোগদখলীয় প্রায় ১৫০ একর পাহাড়ি ভুমি বহিরাগত লোকদের নিয়ে এসে জবরদখলে নিয়েছে।

গ্রামবাসীরা জানান, তারা তাদেরই গ্রাম সংলগ্ন শতাধিক একর পাহাড়ি ভুমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে পড়লে চিরতরে ভুমিহীনসহ ভিটেমাটি হারাবেন, বন্ধ হয়ে যাবে এসব মারমা পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথও।
গ্রাউস কর্মকর্তা নির্বাহী পরিচালক চাইসিং মং মারমা জানান, তিনি বি পি কে এস এর কাছ থেকে ২০১২ সালে গ্রাউস এর নামে ৩০ একর ভূমি ক্রয় করেন। এছাড়া আরও ৫ একর মৌজার হেডম্যানের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে রাবার চারা লাগিয়েছেন। তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান কারো জায়গা অবৈধভাবে দখল করেননি। রেদা মং নামে এক ব্যাক্তির সাথে গ্রাউস ভাইস চেয়ারম্যান মং থুই চিং ভূমির মামলা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =

আরও পড়ুন