সেনা-পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন বিবেচনায়

বান্দরবানের ‘তাইংখালী’ এখন আতংকের জনপদ!

fec-image

বান্দরবান জেলা সদর থেকে রাজবিলা ইউনিয়নের দূরত্ব মাত্র ২০কি:মি। ২৫.৬ বর্গকিলোমিটারের এই ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১৫হাজার। ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তাইংখালী উপর পাড়া, তাইংখালী নিচেরপাড়া, রেনী পাড়া, রাবার বাগান পাড়াসহ আশ পাশের এলাকায় এখন বিরাজ করছে ভীতিময় পরিবেশ।

ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, হামলা, অপহরণসহ একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা এখানকার মূল আতংকের কারণ। এসব এলাকায় প্রতিদিন রাত নামলেই স্থানীয় জেএসএস, পহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও আওয়ামীলী সমর্থক নেতাকর্মীদের ভয় আর আতংক তাড়া করছে।

জানা গেছে, পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল (জেএসএস) ও সম্প্রতি নতুনভাবে আবির্ভূত হওয়া মগ লিবারেশন পার্টির আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে খুুনের রেশ কাটতে না কাটতে একের পর এক খুন হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না স্থানীয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও।

বান্দরবান জেলার আন্ডার ওয়ার্ল্ডে দীর্ঘদিন জনসংহতি সমিতির একক আধিপত্য ছিল। কিন্তু সেই ঘাঁটিতে নতুন করে উত্থান ঘটেছে মগ বাহিনী নামে নতুন একটি সংগঠনের। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে মগ লিবারেশন পার্টিজেএসএস উভয়কে দায়ী করছে আইন শৃংখলা বাহিনীও।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, জয়মনি ও বিনয় তংচঙ্গ্যার হত্যার জন্য মগ বাহিনী ও আওয়ামীলীগ সমর্থক ক্যচিং থোয়াই হত্যা ও অংক্যচিং মার্মার উপর হামলার জন্য জেএসএস জড়িত বলে মনে করছেন তারা। তবে ঘুরেফিরে একই এলাকায় খুন, অপহরণের ঘটনায় প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।

সর্বশেষ রোববার (১৯ মে) ভোররাতে রাজবিলা ইউনিয়নের তাইংখালীতে ক্যচিং থোয়াই মারমা (২৭) নামে এক আওয়ামীলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাই ম্রো অং মারমার ছোট ভাই।

এর আগে গত (৯ মে) জয়মনি তঞ্চঙ্গ্যা (৫২)কে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারী দুষ্কৃতিকারীরা। নিহতের ছেলে রিপন তংচঙ্গ্যা স্থানীয় জেএসএস নেতাকে খুঁজতে এসে তাকে না পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা তার বাবাকে খুন করে।

৭ মে রাজবিলা ইউনিয়নের তাইংখালী এলাকায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিনয় তঞ্চঙ্গ্যা (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত বিনয় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই দিন ৯ নম্বর সইনক্ষ্যংপাড়া থেকে পুরাধন তঞ্চঙ্গ্যা (৪৫) নামের একজন অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাঁর সন্ধান এখনো মেলেনি।

১৪ এপ্রিল তাইংখালী বাজারপাড়ায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক বাবুল মার্মার পিতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থন অংক্যচিং মারমা (৫৪) কে গুলি করে আহত করে দুষ্কৃতিকারীরা। তিনি জেএসএস ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বর্তমানে মগ বাহিনীর এসব খুনোখুনিকে স্বার্থন্বেষী একটি রাজনৈতিক মহল গোপন মদদ দিলেও আগামীতে এটি এলাকার জন্য মঙ্গল হবে না। এতে করে আগামীতে জেএসএস আবারো পাহাড়ে বিচরণ করতে পারে’।

তবে জনসংহতি সমিতির বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উছোমং মারমা সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলেছেন, নেতৃত্ব শূণ্য করার জন্য জেএসএস নেতাকর্মীদের টার্গেট করে খুন করা হচ্ছে। এসব হত্যাকাণ্ডের সাথে আরাকান লিবারেশন আর্মি (এএলএ) সমর্থিত স্থানীয় মগ বাহিনী গ্রুপ জড়িত বলে তিনি দাবী করেন।

এদিকে একের পর এক দলীয় নেতাকর্মী হত্যার প্রতিবাদে ২০ মে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ এক প্রতিবাদ সভা করে। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র সম্প্রীতি বান্দরবানকে নষ্ট করে যারা সন্ত্রাসের রাজ্য বানাতে চায় তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।

সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ড সাধারণ জনগনকে নিয়ে রুখে দেওয়া হবে। সন্ত্রাসীদের এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রত্যেক আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয় সভায়।

এই প্রসঙ্গে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেছেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাহাড়ে খুনোখুনি হচ্ছে। এর আগে যে দুই খুন হয়েছে তার পাল্টা প্রতিশোধের অংশ হিসেবে শনিবার রাতে আরো একজন খুন হয় বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তাইংখালী এলাকায় একাধিক খুনের ঘটনায় ওই এলাকার অধিবাসীদের পক্ষ থেকে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবীর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ওই এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়টি সেনাবাহিনীর বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে তাইংখালীতে রাজবিলা পুলিশ ক্যাম্প ও সদর থানার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে যোগ করেন জেলা পুলিশের র্শীষ এই কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খুন, হত্যা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 4 =

আরও পড়ুন