বান্দরবানের দুই রেড জোনে লকডাউন ঢিলেঢালা

fec-image

বান্দরবান জেলাকে তিনভাগে বিভক্ত করে ২১ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫জুন) প্রথমদিনে রেড জোন বান্দরবান ও লামা দুটি পৌরসভায় লকডাউন শুরু হলেও চলেছে ঢিলেঢালা ভাবে। অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে হলুদ ও সবুজ জোনও ছিল অন্যদিনের মতো স্বাভাবিক। প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কঠোরতা চোখে পড়েনি।

বান্দরবান ও লামার হাট-বাজারের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও রাস্তা-ঘাটে এবং পাড়া মহল্লাগুলোতে অকারণেই মানুষদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত যানবাহন মোটর সাইকেল, গাড়ি চলাচল করেছে পৌর শহরের যত্রতত্র। কোনোভাবেই লকডাউন মানছেনা সাধারণ মানুষ। তবে হাট-বাজার এবং পাড়া মহল্লাগুলোতে আড্ডা বন্ধে সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিয়ে মাইকিং করে লোকজনদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

গত বুধবার’রাতে পৌর শহরে মাইকিং করে হাট-বাজারের সব দোকানপাট এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে ঘোষণা দেয়া হলেও পাহাড়ি জনপদের গ্রামঞ্চলের কৃষক-চাষীদের কানে তথ্যটি পৌঁছায়নি। যার কারণে পূর্বের নিয়মনুসারে কৃষিপন্য নিয়ে ভোর থেকে হাট-বাজারে ভিড় জমায় কৃষকেরা। কিন্তু লকডাউনের কারণে হাট-বাজারে বসতে না দেয়ায় কৃষকেরা কৃষি পন্য নিয়ে বিপাকে পড়েন। অনেকে রাজারমাঠে কৃষিপন্য ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান। অনেকে সাঙ্গু নদীর চরে বসে কোনো রকম বেচা-বিক্রি করে ঘরে নদীপথে ফিরেছেন গ্রামে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শামীম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে আগামী ২১ দিনের জন্য লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউন কার্যকরে কঠোরভাবে মাঠে নেমেছে প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রেড জোনে নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরণের যানবাহন এবং দোকানপাট বন্ধ থাকবে। পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে-গাড়ীতে করে ভ্রাম্যমান বাজারে সবজি, মাছ-মাংস বিক্রি করা হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অনলাইনে হোম ডেলিভারী সার্ভিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ঢিলেঢালা, বান্দরবানের, লকডাউন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 9 =

আরও পড়ুন