parbattanews

বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে শিশুর মৃত্যু

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়নে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্টসহ হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হয়ে আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৫ জন শিশু ভর্তি হয়। ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পাড়ায় শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ইউনিয়নের বেসরকারি একটি অনাথ আশ্রমের এক শিশু হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে মারা যাওয়া শিশুর নাম চাংমুম ম্রো (৮)। চাংমুম ম্রোর বাড়ি উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

কুরুকপাতা ইউনিয়নের প্রেন্নয় নামের একটি অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত চাংমুম ম্রো। প্রেন্নয় অনাথ আশ্রমের পরিচালক উথোয়াইংগ্যো মারমা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে জ্বর, সর্দি থেকে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হামের লক্ষণ থাকায় গত এক সপ্তাহে অনাথ আশ্রমটির ৪০টি শিশুকে আলীকদম হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, এখনো ইউনিয়নের উজিপাড়া, ছোট ব্যাটি, বড় ব্যাটি পাড়াসহ বিভিন্ন পাড়ায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত বহু শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো রিংলতপাড়ার লুকুন ম্রোর সাত মাসের ছেলে খতং ম্রো ও লেংক্লাং ম্রোর তিন মাসের মেয়ে জংরুং ম্রো। তবে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হামে নয় বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার মো. হাসান বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আজ ১৬ জন এসেছিল। এদের মধ্যে ৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে ভর্তি আছে ৯ জন। এখন মোট ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

আরএমও হাসান আরও বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১ জন রোগী এসেছে। এদের মধ্যে ২৮ জনকে ভর্তি করা হয়। ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫ জন। ১৩ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছে।

আলীকদমের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. হানিফ চাংমুম ম্রোর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়নি।

আলীকদমের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হানিফ আরও বলেন, আগামী শনিবার থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হবে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে দুজন করে স্বাস্থ্যকর্মী যাবেন। তারা প্রত্যেক ঘরে গিয়ে খোঁজ নেবেন। হামের উপসর্গে অসুস্থ দশ বছরের নিচে কাউকে পাওয়া গেলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হবে।

আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে ওই ইউনিয়নে ১৩৫টি পাড়ায় প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। সীমান্ত সড়কের সঙ্গে আলীকদম-জানালিপাড়া-পোয়ামুহুরী হয়ে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকলেও অধিকাংশ পাড়া সড়ক থেকে অনেক দূরে। বিশেষ করে ম্রো পাড়াগুলোতে কোনো সড়ক নেই। ওই সব এলাকার ৯৫ শতাংশ পাড়ায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় না। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে খবর দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

Exit mobile version