বান্দরবানে আদার বাম্পার ফলন

বান্দরবান প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ে পাহাড়ে আদার বাম্পার ফলন হওয়ায় ন্যায্য মূল্য পেয়ে চাষীদের মনে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ।

অতি বর্ষণের কারণে বিগত মৌসুমে আদায় পচন ধরায় চাষীদের লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। একই সাথে চাষাবাদ খরচের তুলনায় বাজার মূল্য আশানুরূপ ছিল না। তবে চলতি মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টির ফলে রুমাসহ গোটা বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আদার বাম্পার ফলন হয়েছে।

রুমা উপজেলার বাজার ঘুরে দেখা যায় সেখানে বিপুল পরিমাণ আদা কেনা-বেচা চলছে। মান ভেদে মণ প্রতি আদার দাম পড়ছে ১৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা ।

শুধু রুমা উপজেলায়ই প্রতি বছর কয়েক হাজার একর জমিতে আদার চাষ হয়ে থাকে।

রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের মুয়ালপি পাড়ার আদা চাষী লালজার বম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এ মৌসুমে ১৫ একর জায়গায় ৫০ মণ আদা চাষ করেছিলেন। আর তাঁর বিপরীতে ফলন হয় ৪০০ মণ।

রুমায় অন্যান্য আদা চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর গড়ে প্রায় প্রতি মণ আদা থেকে ফলন হয়েছে ৮ মণ। তবে সবচেয়ে বেশি আদার চাষ হয় রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নে। রেমাক্রী এই প্রাংসা ইউনিয়ন থেকেই প্রায় ২০০০ টনের মত আদা বিক্রি হয়।

চাষাবাদের কোনো আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ না করেই প্রতি বছরই রুমায় আদার ফলন হয় সন্তোষজনক। কারণ এখানে রয়েছে উর্বর পাহাড়ি মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে অতি বর্ষণ না হওয়া।

এমনকি রুমায় আদা চাষ করেই অনেক আদাচাষী লাখপতি হয়েছেন। ভালো ফলন এবং ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি দেখে স্বল্প কিংবা মাঝারি পুঁজি নিয়ে তাই অনেকেই আদা চাষের দিকে ঝুঁকছেন ।

কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মতে, চাষিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে আদার চাষ করা গেলে রুমায় লাখ লাখ টন আদার উৎপাদন সম্ভব।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 1 =

আরও পড়ুন