বান্দরবানে চোখ রাঙাচ্ছে নিউমোনিয়া রোগ

fec-image

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে হঠাৎ বেড়ে গেছে শিশুদের নিউমোনিয়া আক্রান্তের সংখ্যা। শীতের তীব্রতা, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং ঠান্ডা বাতাসের কারণে বিশেষ করে পাঁচ বছরের নিচে শিশুরা গুরুতরভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। জেলার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তির হার দ্রুত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি ও বুক ধড়ফড় সমস্যা নিয়ে শিশুদের আনা হচ্ছে হাসপাতালে। অধিকাংশ রোগীকেই ভর্তি করিয়ে অক্সিজেনসহ জরুরি চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

সিভিল সার্জন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বান্দরবান জেলায় গত একমাসে নিউমোনিয়া রোগের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫২ জন। এর মধ্যে আজকে রোগীর সংখ্যা ১৫ জন শিশু। শুধু নিউমোনিয়া নয়, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে প্রায় ৪৩২ জন। বেশিরভাগ পাঁচ বছরের শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে, এ পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

বান্দরবানে সদর, লামা, আলীকদম, থানচি উপজেলাতেও একই চিত্র। প্রতিদিনই সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাশি, জ্বর, সর্দি উপসর্গ নিয়ে নতুন নতুন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। এই রোগের কারণে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রোগী যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইনের চাহিদাও বেড়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় ঠান্ডা বাতাস বেশি লাগে এবং অনেক পরিবার যথাযথ উষ্ণতার ব্যবস্থা করতে পারে না। ফলে রাতের বেলা শিশুদের শ্বাসতন্ত্র দ্রুত আক্রান্ত হয়। পাশাপাশি ধুলাবালি ও ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে ভূমিকা রাখছে।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র কনসালটেন্ট রাশেদুল আলম বলেন, “নিউমোনিয়া এখন শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে। দেরিতে হাসপাতালে আনা হলে অবস্থা আরও খারাপ হয়। তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “বাইরে খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।”

দূর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে হাসপাতালে আসা পরিবারগুলো আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। অনেক গ্রামে যানবাহনের স্বল্পতা ও কাঁচা রাস্তার কারণে অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে আনতে সময় নেয় দীর্ঘ। এ কারণে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিতে দেরি হচ্ছে।

গ্যালেঙ্গা পাড়া বাসিন্দা অংশৈ বলেন, “জ্বর ও কাশিসহ ঠান্ডা দেখা দিলে রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। সেখান থেকে সদর হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয়। এখানে সঠিক সময় অক্সিজেন ও নিউমোলাইজার দেওয়া হচ্ছে। এখন সুস্থ হয়ে ফিরে যাবো।”

সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এমও) দিলীপ চৌধুরী বলেন, “নিউমোনিয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত অন্যান্য রোগও বাড়ছে। আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি ব্যবহার, শিশুর জ্বর-কাশি উপসর্গ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং ঠান্ডা থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। আর এ ধরনের মৌসুমি রোগ সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না। দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।”

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন