বান্দরবানে দুর্গম ম্রো পাড়াগুলোয় কেন ডায়রিয়ার প্রকোপ

fec-image

বান্দরবানের আলীকদম থানচি উপজেলার পর এবার নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম অরণ্যেও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার পুরো একটি গ্রাম ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে ছুটে এসেছে উপজেলা সদরে। এমন ১৪ জন রোগী শুক্রবার রাতে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ৫জন নারী ৩জন পুরুষ ও ১০মাস থেকে ১১বছর বয়সী শিশু রয়েছে ৬জন। গ্রামেই কাইপ্রু ম্রো নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করলেও স্বাস্থ্যবিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে ওই এলাকায়।

জানা গেছে, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের আমঝিরি পাড়াটি আলীকদম সীমানা লাগোয়া। উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪০কি.মি। এই গ্রামে ৭ পরিবারের প্রায় ৩৮জন মানুষের বসবাস। ম্রো সম্প্রদায়ের এসব মানুষ নিয়মিত ঝিরি-ঝর্ণার পানি পান করে। এখনো স্বাস্থ্য সেবা পৌছায়নি এই গ্রামে।

গত কয়েকদিন ধরে আমঝিরি পাড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে বমি, পেট ব্যাথাসহ ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে। যার মধ্যে কয়েকজন আশঙ্কাজনকসহ ১৪জনকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা।

ওই এলাকার বাসিন্দা মেংলং ম্রো জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৬জন শিশু রয়েছে। তারা হলো- রুইঅং, রেংজং, রোরাং, লিংপ্লাং, মেংজো, মংহ্লা ম্রো। এছাড়া বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ আক্রান্তরা হলো নবাউ ম্রো, নিংকু, চেংওয়াই, কাইপু, কংভুই, চংলেং, ছং ওয়াই, তুংপ্রে ম্রো। তিনি আরও জানান, তাদের আশপাশের গ্রাম কিংবা ইউনিয়ন সদরে স্বাস্থ্যসেবার তেমন কোন সুযোগ না থাকায় আক্রান্ত সকলকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তপন বড়ুয়া জানান, হাসপাতালে আসার সময় কয়েকজন মুমূর্ষু ছিল। পরবর্তী চিকিৎসার মাধ্যমে তারা সুস্থ্য হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকে বমি, পেট ব্যাথা ও ডায়রিয়া আক্রান্ত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছলিম উদ্দিন জানান, দোছড়ির আমঝিরি গ্রামে আক্রান্তসহ অন্যরা হাসপাতালে রোগী নিয়ে চলে এসেছে। ওই এলাকায় বর্তমানে তেমন লোকজন নেই। এরপরও পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন ডাক্তারসহ ৫ সদস্যের মেডিকেল টিম ওই গ্রামে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত মাসে জেলার থানচি ও আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত ম্রো সম্প্রদায়ের মাঝে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। কিছু এলাকায় সেনাবাহিনী জরুরী ভিত্তিতে হেলিকপ্টারযোগে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন। সর্বশেষ নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম ম্রো পাড়ায়ও ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে দুর্গম এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দারা পাহাড়ী ঝিরি ঝর্ণার পানি পান করার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে গত কিছুদিনের বৃষ্টিতে ঝিরি ঝরনা গুলোতে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে, এর এসব পানি পান করেই আক্রান্ত হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী।

এই বিষয়ে তারগু মৌজা হেডম্যান মংনু মারমা জানান, পাহাড়ী জনগোষ্ঠী সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে যুগ যুগ ধরে। তাদের মৌলিক চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 3 =

আরও পড়ুন