
স্টাফ রিপোর্টার :
গণতন্ত্র রক্ষা দিবস ও গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন নিয়ে বান্দরবানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সম্পাদক, পুলিশ সহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। বিএনপির অফিস, দৈনিক পত্রিকা অফিসসহ ২২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাঁধা দেয়। মুক্ত মঞ্চ হতে আওয়ামীলীগের একটি মিছিল শহর প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের বিএনপি কার্যালয়ের নিচে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালায়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ও পুলিশের লাঠি চার্জে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজি মুজিবুর রহমান, বিএনপির সভাপতি সাচিং প্রু জেরী, সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক মো. ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, পৌর মেয়র মো. জাবেদ রেজা, কৃষকলীগের পৌর সেক্রেটারী আবুল বাশার, যুবলীগ কর্মী বিপ্লব, পৌর সেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি ইকবাল মাহমুদ, পুলিশ সদস্য খায়রুল, মোহাম্মদ মুন্না, ইদ্রিস সহ অন্তত ৩০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর সরকার পন্থি নেতাকর্মীরা বাজারস্থ বিএনপির কার্যালয়, ২০টির মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক পত্রিকা অফিস ভাংচুর করে।
এ ঘটনায় পৌর মেয়র জাবেদসহ ৬জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে পুলিশ জাবেদ রেজাকে ছেড়ে দেয়।
বিকালে আওয়ামীলীগ শহরে বর্ণাঢ্য র্যালী শেষে বঙ্গবন্ধু মুক্ত মঞ্চে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও নানা অনুষ্ঠান পালন করে।
জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক কাজী মজিবর রহমান বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা উদ্দেশ্য মূলক ঢিল ছুড়লে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বলেন, বিএনপি সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে মিছিল ও সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
অপরদিকে দুপুর ১টায় বঙ্গবন্ধু মুক্ত মঞ্চ এলাকায় দায়ীত্ব পালন কালে স্থানীয় সাংবাদিক এইচ.এম সম্রাট সরকার সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বান্দরবান থেকে দূরপাল্লার কোন গাড়ি ছেড়ে না যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক পর্যটক আটকা পড়েছে বান্দরবানে।