parbattanews

বান্দরবানে বি/দ্যুৎ/পৃষ্ট হয়ে ৩ জনের মৃ/ত্যু : আ/হ/ত ৭

স্বজনদের আহাজারি

বান্দরবানের চিম্বুক এলাকায় ট্রান্সফরমার শর্ট সার্কিট হয়ে ২৭টি ম্রো পরিবারের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে নাতিসহ ৩ জনের মৃ/ত্যু হয়েছে।

আ/হ/ত হয়েছেন অন্তত আরো ৭ জন। রবিবার রাতে সুয়ালক ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ডের রাংলাই চেয়ারম্যানপাড়ায় এ দুর্ঘনাটি ঘটে। পরে আ/হ/তদের হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। নি/হ/তরা হলেন- উরকান ম্রো (৬৫), তুমলে ম্রো (১৬) ও রোওলেং ম্রো (৩৫)।

তারা একই পাড়ার বাসিন্দা। আ/হ/তরা পাশ্ববর্তী গ্রামে সিংচ্যং পাড়া বাসিন্দা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত ১টার দিকে চিম্বুক পাহাড়ের ঘেষা রাংলাই চেয়ারম্যান পাড়ায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার শর্ট সার্কিট হয়ে দুটি গ্রামের ২৭টি পরিবারের ম্রোদের ঘরে হঠাৎ বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ঘরে থাকা বিভিন্ন সুইচ বন্ধ করতে গেলে বিদ্যুশর্ট লেগে সিংচ্যাপাড়া গ্রামে আ/হ/ত হন অন্তত ৭ জন। এসময় ঘরে ফ্রিজের সুইচ বন্ধ করতে গেলে ১৬ বছর বয়সী তুমলে ম্রো (১৬) বিদ্যুপৃষ্ট হয়। পরে নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে উরকান ম্রো(৬৫) বিদ্যু/পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মৃ/ত্যু হয়। একইভাবে পাশের বাড়িতে সুইচ বন্ধ করতে গেলে রোওলেং ম্রো (৩৫) মারা যান। এ ঘটনার পর ওই এলাকার শোকের ছায়া নেমেছে।

মা ও মেয়েকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে রেংখেন ম্রো। তিনি বলেন, আমার গোছানো পরিবার সব ধ্বস হয়ে গেছে। আমার মেয়ে ও মা বিদ্যুপৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। আমি সরকারে কাছে এর সঠিক বিচার চাই।

সুয়ালক ইউপি চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা বলেন, রাতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ৩ জন মারা গেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের সিনিয়র অফিসার আব্দুর রউক বলেন, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে তিনজন মৃ/ত্যু হয়েছে। আর বেশ কয়েকজন আ/হত হয়েছে। এলাকার মানুষজনের বৈদ্যুতিক বিষয়ে তেমন জ্ঞান নেই বলে জানান তিনি।

বিদ্যু বিভাগের গাফিলতি ও টাকা ছাড়া কাজ না করার অভিযোগ

এলাকবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারটি প্রায় সময়ে আ/গু/ন জ্বলে বিকট শব্দ হত। এ বিষয়টি জানানো হলে কোনো ব্যবস্থা নেননি বিদ্যুৎ বিভাগ।
তাছাড়া বিদ্যু বিভাগের গাফিলতি ও টাকা ছাড়া কাজ করেন না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিংচ্যা ও রাংলাই চেয়ারম্যান পাড়া বাসিন্দা পারও ম্রো ও লংরাও বলেন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় ট্রান্সফরমার সমস্যা বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু একাধিকবার জানানো হলেও পদক্ষেপ নেননি। আর কাজ করতে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন টাকা দিলে আসবেন, টাকা না দিলে আসবেন না। বিদ্যুৎ বিভাগের গাফলতি কারণে ৩ জন নি/হ/ত ও বেশ কয়েকজন আ/হ/ত হয়েছেন।

অভিযোগ বিষয়ে জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Exit mobile version