“সর্বশেষ উচহ্লা ভান্তে ২০১৪ সালের ৫এপ্রিল বান্দরবান ফাতিমা রাণী গীর্জার ৫ দশমিক ৫৭ একর ধানী জমি জোর করে দখল করে নেয়। এই জমিতে উৎপাদিত শস্য থেকে তিনশর ও বেশি অসহায় শিশু কিশোরদের অন্নের যোগাড় হতো যা বর্তমানে জোর করে উচহ্লা ভান্তে ভোগ করে যাচ্ছে, আর এতে বান্দরবান ফাতিমা রাণী গীর্জার অসহায় শিশু কিশোরদের অন্নের যোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে।”

বান্দরবানে উ চ হ্লা ভান্তে কর্তৃক অবৈধভাবে জবরদখলকৃত ভূমি ফিরে পেতে মানববন্ধন

পৌর কাউন্সিলর ও জেলা বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, উচহ্লা ভান্তে একজন সম্মানিত ধর্মগুরু কিন্তু তিনি মানুষের জমি জবরদখল করে অত্যাচারীর ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন।  বান্দরবান বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির ৮৮ পরিবারের ক্রয়কৃত জায়গা ও বান্দরবানের বিভিন্ন জনগণের জমি উপঞঞা জোত মহাথের প্রকাশ উচহ্লা ভান্তে জোর করে দখল করে রেখেছে, আর এতে কষ্টে দিনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উ চ হ্লা ভান্তে কর্তৃক অবৈধভাবে জবরদখলকৃত বৌদ্ধ ফেডারেশন, খ্রিস্টান চার্চ, মিশনারী স্কুল ও ১৫ টি উপজাতীয় পরিবারের ভূমি ফিরে পেতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী বান্দরবানের মানুষ।

বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে সমবেত হয় ভুক্তভোগী ১৫ টি পরিবারের সকল সদস্যবৃন্দ ও সচেতন বান্দরবানের মানুষ।

বান্দরবান সদর হেডম্যান রাজকুমার নু মং প্রু মারমার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কাথলিক ধর্ম প্রদেশ গুরু ফাদার জোরাম ডি রোজারিও।

মানববন্ধনে এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন রাজকুমার নুমং প্রু (হেডম্যান), চট্টগ্রাম কাথলিক ধর্মপ্রদেশ ফাদার জেরোম ডি’রোজারিও, ভুক্তভোগী সত্যহা পানজি ত্রিপুরা, বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া, ব্যবসায়ী মো: নুুরুল আলম, পিস মহিলা কল্যাণ সংগঠনের সভানেত্রী নিনি প্রু মার্মা, আগাথা ত্রিপুরা, দিলীপ চক্রবর্তী, আমেনা বেগম, জর্জ ত্রিপুরা সহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে উপস্থিত সবাই জানান, ধর্মীয় উপাধি নিয়ে তিনি অবৈধভাবে ১৫ টি পরিবারের জমি অবৈধভাবে দখল করেছে। বর্তমানে ভূমিহীন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এই ১৫ টি পরিবার। নিজেদের পৈতৃক নিবাস ফিরে পেতে তারা চেষ্টা চালালে তাদের উপর হামলা করেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যরাসহ বান্দরবানের মানুষ।

তিনি কিছু সন্ত্রাসীর মাধ্যমে ১০০ একর জমি দখল করে তার নিজের আয়ত্তে রেখে বর্তমানে তা তদারকি করছেন আর পথে পথে নিঃস্ব হয়ে ঘুরছেন এই ১৫ টি পরিবার। এছাড়াও তিনি খ্রিস্টান ধর্মীয় মিশনারির জায়গা ও বৌদ্ধ ফেডারেশনের জায়গা দখল করে নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

আর এই অপরাধের জন্য ধর্মীয় গুরুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ভুক্তভোগীরা। তারা সকলে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান প্রশাসন যাতে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে এই ১৫ টি পরিবারের জমি এবং ধর্মীয় মিশরের জমি ও বৌদ্ধ ফেডারেশনের জমি তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উপঞঞা জোত মহাথের প্রকাশ উচহ্লা ভান্তে এক বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুভান্তে হয়ে ও সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরির নামে একে একে সাধারণ জনগণের জমি দখল করে নিচ্ছে, আর সাধারণ জনগন এর বিচার চাইলে উল্টো উচহ্লা ভান্তে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলা চালিয়ে তাদের হয়রানি করছে।

এসময় বক্তারা আরো বলেন, সর্বশেষ উচহ্লা ভান্তে ২০১৪ সালের ৫এপ্রিল বান্দরবান ফাতিমা রাণী গীর্জার ৫ দশমিক ৫৭ একর ধানী জমি জোর করে দখল করে নেয়। এই জমিতে উৎপাদিত শস্য থেকে তিনশর ও বেশি অসহায় শিশু কিশোরদের অন্নের যোগাড় হতো যা বর্তমানে জোর করে উচহ্লা ভান্তে ভোগ করে যাচ্ছে, আর এতে বান্দরবান ফাতিমা রাণী গীর্জার অসহায় শিশু কিশোরদের অন্নের যোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা সরকারের কাছে উপঞঞা জোত মহাথের প্রকাশ উচহ্লা ভান্তের এহেন কর্মকান্ড বন্ধ করার আবেদন জানান এবং সঠিক তদন্ত করে ভুক্তভোগী জনগণের জমি স্ব-স্ব মালিককে ফেরত প্রদানের জোর দাবি জানান।

পৌর কাউন্সিলর ও জেলা বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, উচহ্লা ভান্তে একজন সম্মানিত ধর্মগুরু কিন্তু তিনি মানুষের জমি জবরদখল করে অত্যাচারীর ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন।  বান্দরবান বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির ৮৮ পরিবারের ক্রয়কৃত জায়গা ও বান্দরবানের বিভিন্ন জনগণের জমি উপঞঞা জোত মহাথের প্রকাশ উচহ্লা ভান্তে জোর করে দখল করে রেখেছে, আর এতে কষ্টে দিনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বোমাং রাজপুত্র নুমংপ্রু চৌধুরী বলেন, আমার পিতা প্রয়াত বোমাং রাজা মংশৈ প্রু চৌধুরীর মালিকানাধীন এসব জমিতে আমাদের চাষাবাদ ছিলো। উচহ্লা ভান্তে রাতারাতি এসব জমি দখল করে নিয়েছেন। এমনকি তিনি ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞাও মানেননি।

তিনি আরো বলেন, একজন ধর্মগুরু কি করে এ কাজ করতে পারেন। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি ও ধর্মগুরু’র কাছ থেকে এরূপ আচরণ কোনো মতে কাম্য নয়।

চট্টগ্রাম ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ফাদার জেরোম ডি রোজারিও মানববন্ধনে বলেন, ২০ বছর আগে রোয়াংছড়ি উপজেলার ক্যাথলিক মিশনের নামে সাত একরের জায়গা ক্রয় করা হয়। পরে স্বর্ণমন্দির প্রতিষ্ঠাতা ও রাজগুরু বিহারাধাক্ষ্য উপঞা জোত মহাথের ওরফে উচহ্লা ভান্তে তার বৌদ্ধ মন্দিরের নামে ক্যাথলিকের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও জমি আর ফেরত পায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকে এই বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুর বিরুদ্ধে জমি জবরদখলের অভিযোগ করে আসছে পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বেশ কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান আছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =

আরও পড়ুন