বান্দরবানে যৌথবাহিনীর সাথে গুলিবিনিময়ে চাকমা সন্ত্রাসী নিহত: ৭ এসএমজিসহ ৪৩৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব তুলাতলী এলাকার ডুলুরঝিরি রাস্তা নামক স্থানে র‌্যাব-৭ লে. কর্ণেল মিফতা এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী-র‌্যাবের সঙ্গে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের সাথে ব্যাপক গুলিবিনিময় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জ্ঞান সংকর চাকমা (৩৯) নামে এক উপজাতীয় সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে রাঙ্গামাটি জেলার পৌর এলাকার জেলরোডের হামিচ কুমার চাকমার ছেলে। তার মায়ের নাম শজল মালা চাকমা।

সূত্র জানায়, বাঘাইছড়ির হামলায় জড়িতরা পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ জন্য তারা অত্যাধুনিক অস্ত্র কিনে আবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নামে।

সন্ত্রাসীদের একটি দল একপর্যায়ে সেনা টহলের তাড়া খেয়ে পালানোর সময় র‌্যাবের পাতা ফাঁদে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাপক গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে সন্ত্রাসীরা গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে এক ব্যক্তির মরদেহ সাতটি এসএমজি, ৪৩৭ রাউন্ড গুলি, ১১টি গুলির খোসা ও বেশ কিছু সরঞ্জামসহ নগদ চার লাখ ৩৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী দুর্বৃত্তদের ধরতে যৌথ অভিযান শুরু করেছে, যা এখনো চলমান রয়েছে।

চট্টগ্রাম র‌্যাবের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি রাঙ্গামাটিতে নির্বাচনী দায়িত্ব শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৭জন নিহত হওয়ার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন শৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের ফাঁদ পাতে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার ভোররাতে নাইক্ষ্যংছড়ির তুলাতলীতে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত জ্ঞান সংকর রাঙ্গামাটিতে হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে এ রকমের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান বিশেষায়িত আভিযানিক দলটির নেতৃত্বদানকারী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ৭ এর অভিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি আরো জানান, এ বিশেষ অভিযানে র‌্যাব ৭ এর প্রায় সকল শীর্ষ কর্মকর্তাই অংশ নেন।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আনোয়ার হোসেন জানান- ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অস্ত্র এখনো  জমা হয়নি।  র‌্যাব মামলা দিলে নেওয়া হবে।
Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অস্ত্র উদ্ধার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − 9 =

আরও পড়ুন