বান্দরবানে ৪ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

fec-image

বান্দরবানে সরকারি ও বেসরকারি গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের পাওনা বর্তমানে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এরমধ্যে শুধুমাত্র বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছেই বকেয়া আছে প্রায় ৯৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বান্দরবান সরবরাহ কেন্দ্র সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান জেলার আওতায় দুটি পৌরসভাসহ ৭টি উপজেলা রয়েছে। বান্দরবান জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছে পৃথক দুটি কেন্দ্র। বান্দরবান সদর, থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি উপজেলা এবং বান্দরবান পৌরসভা পিডিবি বান্দরবান কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। অপরদিকে লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এবং লামা পৌরসভা কক্সবাজার জেলা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

পিডিবি বান্দরবান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন জানান, বান্দরবান সরবরাহ কেন্দ্রের জন্য চট্টগ্রামের দোহাজারী হতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বান্দরবান কেন্দ্রের জন্য দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১১ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ৬-৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য বর্তমানে বান্দরবানে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। লোডশেডিং যত কম করা যায় তার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি জানান, বান্দরবান সরবরাহ কেন্দ্রে বর্তমানে (২৬ জুলাই পর্যন্ত) মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৮ হাজার সাতজন। এরমধ্যে প্রিপেইড মিটার গ্রাহক রয়েছে ২ হাজার ২শ ১৭ জন, বাকিরা পোস্টপেইড মিটার গ্রাহক।

পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন আরো বলেন, ‌‘বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও অনেকে বিল পরিশোধ করতে না চাওয়ায় বকেয়া বাড়ছে। বকেয়া বিল আদায় করতে আমরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। উপরের নির্দেশ পেলেই তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করেন, তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর বকেয়া আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় পুরনো অনেক বকেয়া আদায় হয়েছে। লোডশেডিং কমানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বান্দরবানে কম লোডশেডিং হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছেই বকেয়া ৯৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী খোর্শেদ আলম প্রধান বলেন, ‘এসব টাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বিদ্যুৎ বকেয়া বলা হলেও এটা বান্দরবান পৌর পানি সরবরাহ কেন্দ্রের বকেয়া। আমরা পৌর এলাকার পানি সরবরাহ করে থাকি। এজন্য পানির গ্রাহক পৌরসভাকে বিল দেয়। সে বিল পেলেই বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করা হয়।’

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগর একটি সূত্র জানায়, উক্ত কেন্দ্রের আওতায় ৪১টির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে। প্রত্যেকের কাছে কম বেশি বিল বকেয়া আছে। এ ছাড়া অনেক অফিসে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখে কর্মকর্তা বদলি হয়ে চলে গেলে সেই স্থল নতুন কমর্কর্তা এসে আগের বকেয়া বিল পরিশোধ করেনা। এ ছাড়াও অনেক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বছরের পর বছর সরকারি বাসা ও ডরমেটরিতে বসবাস করে আসলেও তারা বদলি হলে বিদ্যুৎ বিল না দিয়েই চলে যায়। এসব কারণে গ্রাহক পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের বকেয়া টাকা রয়ে গেছে। যারা বাসা ও ডরমেটরিতে থাকবেন, বদলি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরদারি করলে বিদ্যুতের বিল এভাবে বকেয়া থাকতো না।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বান্দরবান, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − one =

আরও পড়ুন