বান্দরবান নতুনপাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

fec-image

ভর্তিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা নিয়ে ভর্তি বাণিজ্য, উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে অর্থ কর্তন, শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র নিতে টাকা নেয়াসহ যাবতীয় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান শহরের নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ সকল অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্যচিংঘাটা নতুনপাড়ার জনসাধারণ।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক লিটন কান্তি দাশ ওই স্কুলে যোগদানের পর থেকে দূর্নীতি ও অনিয়মের কারনে স্কুলের লেখাপড়ার পরিবেশ হুমকীর মধ্যে পড়েছে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক লিটন কান্তি ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ জনপ্রতি ১শ’ ৫০ টাকা এবং পুরাতন ভর্তি বাবদ ১শ’ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে স্কুলের সিলিং ফ্যান ক্রয়ের নামে উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২শ’ টাকা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১শ’ টাকা আদায় করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দের স্লিপ এর ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দের বিপরীতে এখনো কোন উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়নি।

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক লিটন কান্তি দাশ নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বেশ কয়েকদিন তিনি স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং হাজিরা খাতায়ও স্বাক্ষর ছিল না। পরের সপ্তায় হাজিরা খাতার চিত্রে দেখা যায় অনুপস্থিত তারিখে প্রধান শিক্ষক তার স্বাক্ষর করে রেখেছেন। একই বছর অক্টোবর মাসে তিনি কয়েকদিন স্কুলে না এসে হাজিরা খাতায় পরে স্বাক্ষর করে দেন।

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দূর্নীতি সহায়তাকারী হিসেবে পরিচিত দুই সহকারী শিক্ষককে তিনি সব সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। এজন্য তাদের সুযোগ সুবিধাও দেন প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক লিটন ও ডেপুটেশনে আসা সহকারী শিক্ষক রুপশ্রী দাশ বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে সাম্প্রদায়িক উষ্কানী দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করেছেন লিখিত অভিযোগে।

এই বিষয়ে স্কুল কমিটি সভাপতি আলী হোসেন জানান, স্লিপের অর্থ দিয়ে স্কুলে কাজ হয়েছে কিন্তু না দেখে বলা যাবে না। তবে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ অন্যান্য অভিযোগগুলো তিনি শোনেন নি বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিটন কান্তি দাশ জানান, যে অভিযোগটি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্কুল সংশ্লিষ্ট জনৈক ব্যক্তি এই অভিযোগটি করিয়েছেন। তবে অভিযোগের কোন তথ্য সত্য নয়।

তবে তিনি স্বীকার করেন, স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় স্থানীয়জনগণ থেকে আর্থিক অনুদান নিয়ে কাজ করতে হয়। কাউকে জোর করে নয়। সেক্ষেত্রে অভিভাবক ও এসএমসি কমিটির পরামর্শক্রমে স্কুলের কাজে সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীরা দ্রুততার সাথে নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল অনিয়ম দূর করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অভিযোগ, দুর্নীতি, বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =

আরও পড়ুন