বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা, ছেলে দীপেন দেওয়ান তারেক রহমানের মন্ত্রী

fec-image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন রাঙামাটি আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা।

১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী দেওয়ায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তারা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। অভিনন্দিত করছেন দীপেন দেওয়ানকে।

প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন দীপেন দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন মাত্র ৩১ হাজার ১৪২ ভোট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে জেলা যুগ্ম জজের চাকরি ছেড়ে দীপেন দেওয়ান যোগ দিয়েছিলেন বিএনপিতে। তখন চাঁদপুর জেলার যুগ্ম জজ ছিলেন তিনি। যোগদানের পর নির্বাচিত হন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি। বর্তমানে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে আছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২০ বছর ধরে রাঙামাটিতে দলটির কান্ডারি হয়ে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মাঠে তৎপর ছিলেন দীপেন। আর তারই প্রতিদানে তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে উপযুক্ত মূল্যায়ন করলেন তারেক রহমান। দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন তৎকালীন জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা।

দীপেন দেওয়ান বলেন, তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন এতে আমি গর্বিত। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বদ্ধ পরিকর। সবার সহযোগিতায় আমি পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

এদিকে এবারই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনেই বিএনপির বিশাল জয় হয়েছে। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে দলটির রাঙামাটি থেকে মণিস্বপন দেওয়ান ও খাগড়াছড়ি থেকে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া নির্বাচিত হলেও বান্দরবানে দলীয় প্রার্থী পরাজিত হন। তৎকালীন সরকারে রাঙামাটির মণিস্বপন দেওয়ানকে দেওয়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে উপমন্ত্রী। আর খাগড়াছড়ির আবদুল ওয়াদুদকে দেওয়া হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান।

তার আগে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত পার্বত্য শান্তিচুক্তির শর্তে ১৯৯৮ সালে গঠিত মন্ত্রণালয়টির পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের খাগড়াছড়ির এমপি কল্প রঞ্জন চাকমা (১৯৯৮-২০০১)। ২০০৭-২০০৮ সালে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়।

২০০৮-২০১৪ সালে মন্ত্রণালয়টির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পান দীপংকর তালুকদার। ২০১৪-২০১৮ সালে মন্ত্রণালয়টির প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং। এরপর ২০১৮-২০২৩ সালে মন্ত্রণালয়টিতে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে খাগড়াছড়ির কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে মন্ত্রণালয়টির প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তবর্তী সরকারে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: তারেক রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিসভা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন