বিএনপির প্রধান কাণ্ডারিকে দেখতে অধীর আগ্রহে বাংলাদেশ


দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে অবশেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সিলেট হয়ে ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাবেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দলের প্রধান কাণ্ডারিকে একনজর দেখতে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য। তারেক রহমানের মহাপ্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বইছে উৎসবের আমেজ।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বনানী ও কাকলী হয়ে সরাসরি কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চে উঠবেন তারেক রহমান। সেখানে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি।
গত ২১ ডিসেম্বর থেকেই মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সংবর্ধনা কমিটির সদস্যরা দিন-রাত তদারকি করে আয়োজনকে পূর্ণতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং মহানগরের শীর্ষ নেতারা ক্ষণে ক্ষণে খোঁজখবর নেন। বিএনপির একাধিক নেতার ভাষ্য, এটি কেবল একটি মঞ্চ নয়, এখান থেকেই জন্ম নেবে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস।
এই বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। অনুমতিপত্রটি গত রোববার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে সালাহউদ্দিন আহমদকে আহ্বায়ক ও রুহুল কবির রিজভীকে সদস্যসচিব করে উচ্চপর্যায়ের একটি সংবর্ধনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনতে বাস ও লঞ্চের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত বগি সংযোজনের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। জনদুর্ভোগ এড়াতে কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে ফিরলে তারেক রহমানকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য ও বিএনপি মনোনীত ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন। ঢাকা মহানগরসহ প্রতিটি জেলার নেতাকর্মীদের সমন্বয়ের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে প্রিয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
তিনি আরও জানান, সংবর্ধনা মঞ্চে শুধুমাত্র দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাই আসন পাবেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। অনুষ্ঠানস্থলে আগত নেতাকর্মীদের জন্য থাকবে পর্যাপ্ত আসন। অভ্যর্থনা কেন্দ্রে দেওয়া হবে পানি ও বিস্কুট এবং সর্বদা প্রস্তুত থাকবে মেডিকেল টিম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, তারেক রহমানের আগমনে ঢাকায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম আশা করছে দলটি। জনস্রোত সামাল দিতে এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে বিএনপি।
বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তারেক রহমানের নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এ কে এম শামসুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ (সিএসএফ) ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন।
তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের জন্য বিমানবন্দর এলাকা, পূর্বাচল, কাঞ্চন ব্রিজ, আবদুল্লাহপুর, বনানী ও মহাখালীসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় এক হাজার মাইক লাগানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে হাজারো বিলবোর্ড ও তোরণ।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। কেবল যাত্রীরাই এই সময়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
এদিকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনতে রেলওয়ে থেকে ১০টি ট্রেন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার, জামালপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ভৈরব, পঞ্চগড়, খুলনা, রাজশাহী ও যশোরসহ বিভিন্ন রুট থেকে এসব ট্রেন ঢাকায় আসবে। এ ছাড়া বাস ও লঞ্চে করেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন।

















