বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়ী দীপেন দেওয়ান


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি আসনের প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৭০২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৪২ ভোট।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীসহ মোট সাতজন প্রতিদ্বন্দিতা করেন।
রাঙামাটি আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬৬। এর মধ্যে বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ১০ হাজার ১৫২ এবং বৈধ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৪ হাজার ১৮ । এবার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এর আগে দীপেন দেওয়ান গত ২০ বছর ধরে রাঙামাটি জেলা বিএনপির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করেন। যোগদানের পর বাংলাদেশের রাজনীতির চড়াই-উৎরাইয়ের কারণে সেসময় আর নির্বাচন না হয়ে ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি হলে আটকে যায় দীপেন দেওয়ানের রাজনৈতিক পথযাত্রা।
ওয়ান ইলেভেন সরকারের নতুন নির্বাচনী আইনের ফাঁদে আটকে পড়ে মাত্র তিন মাসের মেয়াদের জন্য ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন করতে পারেননি দীপেন দেওয়ান। এরপর ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে অদ্যবধি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহধর্ম বিষয়ক সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাঙামাটি বিএনপির অভিভাবক হিসেবে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে কাজ করে গেছেন। অবরোধ, মিছিল, মিটিংয়ের সবখানেই ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। দুঃসময়েরও দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান অবশেষে টিকেট পেয়ে জয়ের মালা পড়লেন।
উল্লেখ্য দীপেন দেওয়ানের প্রয়াত পিতা সুবিমল দেওয়ান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ট্রাইবাল এফেয়ার্স বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

















