বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হবে : তারেক রহমান


বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান বলেন যে, ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে খালেদা জিয়ার সেই উদ্যোগ (বাণিজ্যিক রাজধানী) যত দ্রুত সম্ভব, আগামী বিএনপি সরকার সেটিকে বাস্তবায়ন করবে—যাতে করে এই এলাকার মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাসহ সকল কিছু এখানে বসেই কাজ সেরে নিতে পারে।
চট্টগ্রামের সাথে তাঁর পরিবারের একটি আবেগের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি—যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখান থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমির সাথে আমি এবং আমার পরিবারের একটি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে যে, দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল; কিন্তু সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। আমরা দেখেছি বিগত ১৫ বছর এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি।
এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়- সমগ্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সারা দেশে ব্যবসা বাণিজ্য অনেক চাঙ্গা হবে যাতে করে মানুষের কর্মসংস্থান হবে; মানুষ চাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্য করে খেতে পারবে। কী সেটি?
তাহলে জনমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি কঠোর হস্তে দুর্নীতি মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটি হলো—দুর্নীতি। যেকোনো মূল্যে আগামী বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে— এই দুটি (দুর্নীতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা) হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট এই দেশের মানুষের কাছে। কারণ বিএনপি সরকার অতীতেও প্রমাণ করেছে ’৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যেই সরকার ছিল, তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে ধীরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছেন।
তারেক রহমান বলেন, আজকে আমি আপনাদেরসহ এখানে হাজার-লক্ষ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই—আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করেন; তাদেরকে কোনো ছাড় আমরা দেব না ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনকে যদি সত্যিকারভাবে মিনিংফুল পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়; তাহলে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
দুর্নীতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে কোনো পরিকল্পনায় কাজে দেবে না বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি—সব করতে পারে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক—যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে; আমরা তাদেরকেও ছাড় দেইনি। আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

















