বিমল ত্রিপুরার পরিবারের পাশে নেই পার্বত্য আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ, জনমনে প্রশ্ন


জমিজমার মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধে মারামারির ঘটনায় নিহত খাগড়াছড়ির বিমল ত্রিপুরার পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পাহাড়ি অঞ্চলিক সংগঠনগুলো। তাছাড়া এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো উত্তেজনা ও সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালালেও নিহত বিমল ত্রিপুরার পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি। এতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ সকল নাগরিকের মাঝে রাষ্ট্রীয় দুই পরিষদ ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সেনাবাহিনী, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলো ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী পরিবারকে সক্রিয় সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এমন নীরবতায় স্থানীয়রা অভিযোগ তুলছেন যে, সরকারি এই দুটি প্রতিষ্ঠান মুখে সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বললেও বরাবরই তারা আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দুটির নীতিনির্ধারকরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে গোপন আতাত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
জানা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বিমল ত্রিপুরা নিহত হবার পর তাঁর স্ত্রী ৩ সন্তানের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনা নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। সন্তানদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ হয়ে না যায় এজন্য খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিমল ত্রিপুরার ৩ সন্তানকে শিশু সনদ স্কুলে ভর্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়। তাছাড়া ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি রিজিয়ন, ৬১ ইস্ট বেঙ্গল, মহালছড়ি জোন, খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিমল ত্রিপুরার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি রিজিয়ন থেকে বিমল ত্রিপুরার পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং ৬১ ইস্টবেঙ্গল, মহালছড়ি জোন থেকে আরো ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও ভুক্তভোগী পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া অন্যান্য সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকেও বিমল ত্রিপুরার পরিবারকে আরো ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় জমিজমার মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মারামারির ঘটনায় বিমল ত্রিপুরা আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তিনি ২৩ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধকে কেন্দ্র করে বিমল ত্রিপুরার নিহত হবার ঘটনাকে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরির লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়।
এদিকে বিমল ত্রিপুরা নিহত হবার এই ঘটনায় উভয় পক্ষই খাগড়াছড়ি থানায় মামলা দায়ের করে। বিমল ত্রিপুরার প্রতিপক্ষ ৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন পাহাড়িকে আসামী করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করলে এদের মধ্যে ৩ জন আগাম জামিন নিয়েছেন এবং ২ জন পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে বিমল ত্রিপুরার পক্ষের লোকেরা ৮ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের ২ জনকে আটক করে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে। ১ জন আসামী চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন এবং বাকি ৫ জন পলাতক রয়েছেন।

















