বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছে মিয়ানমার

fec-image

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকে প্রহসন বলেই মনে করছে সরকার। কেননা, তারা তাদের আচরণ পরিবর্তন করলেও নীতির কোনও পরিবর্তন করেনি। এ অবস্থায় আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবের সফরকে রোহিঙ্গা সংকট থেকে বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

গত ২৭ ও ২৮ জুলাই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন মিন্ট থো। সে সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানান, তারা (রোহিঙ্গারা) নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন মিয়ানমার পরিবর্তন করবে না।

মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের কারণে রোহিঙ্গারা ওই দেশের নাগরিকত্ব হারায়। জাতিসংঘের প্রয়াত মহাসচিব কফি আনানসহ বিশ্ব সংস্থাটির সবাই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এই আইন পরিবর্তন করার সুপারিশ করেছেন।

সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে মিয়ানমার বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার কথা মিয়ানমার পররাষ্ট্র সচিব বৈঠকে বলেছেন। একইসঙ্গে বর্তমান আইনের অধীনে তাদের আবেদন করতে হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি মোটামুটি পরিষ্কার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে এবং মিয়ানমার তখন বলার চেষ্টা করবে তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেছে।’

তিনি বলেন, তারা যেটাই বলুক, যদি নাগরিকত্ব আইন সংশোধন না হয়, তবে এই সমস্যার সমাধান করা কঠিন।

সরকারি আরেকজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম একদল রোহিঙ্গাকে রাখাইনে নিয়ে যেতে। তারা (মিয়ানমার সরকার) কী ব্যবস্থা করেছে, তা ওই রোহিঙ্গাদের দেখাক। যাতে করে তারা ফেরত এসে অন্য রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতে উৎসাহিত করতে পারে। কিন্তু মিয়ানমার এতে রাজি হয়নি।’

মিয়ানমারের উদ্দেশ্য যদি ভালো হতো তবে তারা রাখাইনে থাকা বাস্তুচ্যুত দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে জড়ো করে ২৬টি ক্যাম্পে এনে রাখতো না। এই ২৬টি ক্যাম্পের মধ্যে মাত্র একটি তারা বন্ধ করেছে, বাকিগুলো বহাল রয়েছে বলেও তিনি জানান।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বেসামরিক সরকারের সমর্থনসহ মিয়ানমার মিলিটারি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা শুরু করে। এতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

হত্যা, ধর্ষণ এবং বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো গণহত্যামূলক কাজের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =

আরও পড়ুন