ভাই-বোনের পড়ালেখা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় হাঁসপালন করছেন বোন পিংকি

fec-image

২০২১ সালে বৈশ্বিক করোনায় মা ও জ্বরে বাবাকে হারিয়ে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ২ বোন, ১ ভাই পরিবারে আর্থিক টানাপোড়নে পড়েন! সংসারের খরচ ও পড়ালেখার অভাব মোচনে কোন কূলকিনারা না পেয়ে স্বল্প পুঁজিতে কিছু একটা করে অন্তত ছোট ভাই-বোনের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ভাবছিলেন প্রয়াত সাধন চন্দ্র নাথ ও লক্ষ্মী রানী নাথের বড় কন্য মাস্টার্স পড়ুয়া পিংকী রানী নাথ। ছোট ভাইবোনের পড়ালেখা ও ভরণপোষণে মা-বাবার আদলে দেখবাল করছেন বড় বোন পিংকী রানী নাথ!

পিংকী রানী নাথ চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে বাংলায় অর্নাস শেষে এখন মাস্টার্স করছেন। অন্যদিক ভাই (মেঝ) সাগর চন্দ্র নাথ এ বছর বি. কম এ ভর্তির অপেক্ষায় । ছোট বোন টিংকী রানী নাথ মানিকছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজে আইএসসিতে। সংসারে ৩ জনের পড়ালেখা খরচ ও ভরণপোষণে মামা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র নাথের সহযোগিতা করলেও নিজ পায়ে দাঁড়ানো ও ছোট ভাই-বোনকে স্বাবলম্বি করার স্বপ্ন বুনছেন পিংকী রানী নাথ। তাই নিজের সাধ্য অনুযায়ী চলতি বছর কুমিল্লা থেকে দেশী জাতের ৪৫০টি হাঁস কিনে উপজেলার ছদুরখীল নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। গত দু’মাসে সফলতার সূচনা অনুমান বা অনুধাবন করতে পারছেন পিংকি।

বাবা-মা মারা যাওয়ার পর বছর অভাব অনটনে কেটে গেলেও এখন অনেকটা সাফল্যের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে অনাথ পিংকি, সাগর ও টিংকি।
মানিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমে ছদুরখীল হিন্দুপাড়ার খোলা পরিবেশে জলাশয়ে হাঁস পালনে এখন মনোযোগী এই তরুণ উদ্যোক্তা।

পার্বত্যনিইজকে পিংকি জানান, একজন সফল খামারির পরামর্শ নিয়ে ৪৫০টি হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করেন গত জুন মাসে। বিভিন্ন রোগে শত খানেক হাঁস মারা যায়। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ না থাকায় বিশাল ক্ষতি হয়েছে। সরকারিভাবে প্রশিক্ষিত হতে পারলে হাঁস পালন লাভবান প্রকল্প। বর্তমানে সাড়ে ৩০০ হাঁস আগামী ২-৩ মাস পর ডিম দিবে। বাড়ির পাশেই জলাশয় থাকার কারণে বাড়তি খাবার দিতে হয়নি। তারপরও দৈনিক কমপক্ষে ১২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক যুবতী এখন হাঁস পালন উৎসাহ দেখিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আর্থিকভাবে যে কেউ সহযোগিতা না করতে পারলেও হাঁসের চিকিৎসা, টিকা ও পরামর্শে সহযোগিতা পেলে সচ্ছলভাবে লালন পালনে তার আর্থিক ব্যয় কমে আসতো।

পিংকি আরও জানায়, বৈশ্বিক মহামারী করোনায় ২০২১ সালের ১০ জুলাই মা এবং একই বছর ১০ নভেম্বর জ্বরে বাবা মারা যায়! এর পর মামার কৃপায় আমরা ৩ ভাই-বোন বেঁচে আছি। সম্প্রতি আমার বিয়ে হয়েছে। স্বামীর বাড়ি যাওয়ার আগে ছোট ভাই-বোনকে একটু স্বস্তিদায়ক করতে হাঁসপালনে এখন পুরো মনোযোগ দিয়েছি। যদিও ছোট ভাই এখনো এসবে মনোযোগী হয়ে উঠেনি। দেখি তাদের জন্য খামারটিকে দাঁড় করিয়ে যেতে পারি কী না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + eight =

আরও পড়ুন