ভারতের ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করল পাকিস্তান

fec-image

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থানে নির্মিত রাম মন্দিরে সাম্প্রতিক সময়ে পতাকা উত্তোলন নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ঘৃণাজনিত অপরাধের বিষয়ে সতর্ক করে পাকিস্তান। একইসঙ্গে ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানায় দেশটি।

মঙ্গলবার ( ২৫ নভেম্বর ) পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রভাবে ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়মিতভাবে অবহেলা এবং অপমানের শিকার হচ্ছে।

১৯৯২ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)–সমর্থিত হাজারো হিন্দু কর্মী বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে সেখানে রাম মন্দির নির্মিত হয় এবং গত জানুয়ারিতে এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। ভক্ত হিন্দুদের বিশ্বাস, হাজার বছর আগে ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল অযোধ্যায় এবং মসজিদটি তাঁর জন্মস্থলের ওপর নির্মিত হয়েছিল।

তবে ভাঙা মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের পরিচায়ক বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তান।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পবিত্র অনুষ্ঠানে’ ওই ‘মন্দিরের’ শীর্ষে একটি গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছেন, যা এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার সংকেত বহন করে।

বিবৃতিতে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দ্রাবি বলেন, এটি ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টির বিস্তৃত প্রবণতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রভাবে মুসলিম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তিনি বলেন, নানা ঐতিহাসিক মসজিদ এখন অপবিত্র করা বা ভেঙে ফেলার হুমকির মুখে রয়েছে। আর ভারতীয় মুসলিমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকায়নের শিকার হচ্ছেন।

মুখপাত্র আরও বলেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতের বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ঘৃণাপ্রসূত হামলার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘ এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলামী ঐতিহ্য সুরক্ষায় এবং সকল সংখ্যালঘুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের নিরাপত্তায় তাদের গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান ভারতের সরকারকে আহ্বান জানায় যে, তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার আলোকে মুসলিমসহ সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং তাদের উপাসনালয়গুলো রক্ষা করবে।

সূত্র: দ্যা ডন নিউজ

 

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম, পাকিস্তান, ভারত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন