ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বাণিজ্যিক আলোচনায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এক ফোনালাপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ (কিছু ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ) থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেন।
নরেন্দ্র মোদির অনুরোধ এবং ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে ট্রাম্প এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এর ফলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যগুলো এখন থেকে অনেক কম শুল্কে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ১৪০ কোটি ভারতীয়র পক্ষ থেকে তিনি এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞ। মোদি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গণতন্ত্র ও অর্থনীতি একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশের জনগণের জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও কয়লা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনায় গুরুত্ব দেবে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও রুশ তেল আমদানি ও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কেনাকাটা নিয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চুক্তিটি ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও পীযূষ গোয়েল একে ‘উইন–উইন’ চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটি ভারতের কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, চুক্তির ঘোষণা ভারত সরকারের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেই আসা অনভিপ্রেত।
সব মিলিয়ে, বিশেষজ্ঞদের মতে ট্রাম্পের এই ঘোষণা ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
