parbattanews

ভারতের তামিলনাড়ুতে ৪৯ বছরের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছেন বিজয় থালাপতি

থালাপতি বিজয়। ছবি সংগৃহীত।

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর (থালাপতি বিজয়)-এর দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) চূড়ান্ত জয়ী হতে চলেছে। জয় নিশ্চিত হলে প্রায় ৪৯ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটবে, কারণ ১৯৭৭ সালের পর কোনও চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি।

১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ এম.জি. রামচন্দ্রন তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় আসেন এবং এক দশক ধরে রাজ্য পরিচালনা করেন। তিনি তাঁর জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির নতুন ধারা গড়েছিলেন। পরবর্তীতে জয়ললিতা এআইএডিএমকে-র নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষমতায় আসলেও নিজস্ব দল গঠন করেননি।

বর্তমান নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, ফলে বিজয় এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন।

বিজয়ের এই উত্থান হঠাৎ নয়। ২০০৯ সালে তিনি ভক্তদের সংগঠনকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কম’ হিসেবে গঠন করেন। শুরুতে এটি সামাজিক ও সেবামূলক প্ল্যাটফর্ম হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। ২০১১ সালে তিনি প্রথমবার এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেন এবং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক বক্তব্য স্পষ্ট করেন। তিনি বেকারত্ব, শিক্ষা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন, যা বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে।

২০২১ সালের স্থানীয় নির্বাচনে তাঁর সংগঠনের ভালো ফল প্রমাণ করে যে জনপ্রিয়তা ভোটে রূপান্তরিত হতে পারে। ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্রি কাজগম গঠন করেন এবং ঘোষণা দেন, তিনি কোনও জোট ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিন দশক ধরে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকে সরে এসে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন।

তবে পথ সহজ ছিল না। ২০২৫ সালে করুরে একটি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা তাঁর নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তিনি প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, যা তার রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে, এআইএডিএমকে ও টিভিকে—এই তিনটি শক্তির মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমজিআরের জনপ্রিয়তা যেখানে জনকল্যাণমূলক রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করেছিল, সেখানে বিজয়ের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের উদ্বেগ, শাসনব্যবস্থার ক্লান্তি ও স্বচ্ছ পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন তামিলনাড়ুর রাজনীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। বিজয় যদি সরকার গঠন করতে পারেন, তবে তিনি প্রায় পাঁচ দশক পর প্রথম অভিনেতা-রাজনীতিবিদ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। আর না হলেও, তিনি প্রমাণ করেছেন যে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এখন অসম্ভব নয়।

সূত্র: এনডিটিভি

Exit mobile version