ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কানেক্টিভিটিতে বড় বিনিয়োগ করছে জাইকা

fec-image

ভারতে আসামের নয়া ধুবড়ি থেকে মেঘালয়ের ফুলবাড়ি পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু। এটিই হতে যাচ্ছে ভারতের দীর্ঘতম সেতু। এ সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। সেতুটি নির্মাণ হলে বাংলাদেশ থেকে ভারতের মধ্য দিয়ে ভুটানে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মেঘালয়ের তুরা থেকে ডালু পর্যন্ত হাইওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে। মেঘালয়েই শিলং থেকে ডাউকি পর্যন্ত বিদ্যমান হাইওয়েকে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। মূলত বাংলাদেশের সঙ্গে মেঘালয়ের কানেক্টিভিটি তৈরিতেই মহাসড়ক দুটির উন্নয়নকাজ চলছে। দুটি প্রকল্পেই অর্থায়ন করছে জাইকা।

আসামের শ্রীরামপুর থেকে ধুবড়ি পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে চলমান নির্মাণ ও উন্নয়নকাজও হচ্ছে জাইকার অর্থায়নে। এ প্রকল্পগুলোও মূলত আসাম ও মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কানেক্টিভিটি তৈরির উদ্দেশ্যেই বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বড় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে কানেক্টিভিটি। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়ার পর থেকেই দুই দেশের কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোয় গতি এসেছে। এক্ষেত্রে আবার উভয় দেশেরই বড় উন্নয়ন অংশীদার হয়ে উঠেছে জাপান। বাংলাদেশের মতো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোয় জাইকার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে দেশটি।

জাইকার তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ সালে সংস্থাটি প্রথম ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষায় এখানকার পরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগের অর্থনৈতিক ফলাফল ও গুরুত্ব খতিয়ে দেখা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকারের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোয় বিনিয়োগ নিয়ে জাইকার একটি চুক্তি সই হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের দেশটির জাতীয় মহাসড়কের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন অংশে মোট ৬৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কপথের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে বিনিয়োগ করছে জাইকা। মোট পাঁচ ধাপে ‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কানেক্টিভিটি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয়’ বিনিয়োগ করছে সংস্থাটি। জাইকা সূত্রে জানা গিয়েছে, এজন্য জাপান সরকারের আনুষ্ঠানিক উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় দেয়া ঋণ হিসেবে মোট ১৬ হাজার ১০০ কোটি ইয়েন (১৪০ কোটি ডলারের বেশি) বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

উত্তর-পূূর্ব ভারত এখন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক হটস্পটগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে। এলাকাটির অবস্থান দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঠিক সংযোগস্থলে। অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের ভাষ্যমতে, দুর্গম ও জটিল ভূগঠনের কারণে এ অঞ্চল এখনো পশ্চাত্পদ রয়ে গিয়েছে। আবার অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের যুগে এ অঞ্চলের উন্নয়নের অপরিহার্যতাও বড় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের ‘লুক ইস্ট’ (পুবে দেখো) ও এর ধারাবাহিকতায় গৃহীত ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ (পুবে চলো) নীতি বাস্তবায়নের জন্য দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। শুধু ভারত নয়, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিমসটেক জোটভুক্ত অন্য দেশগুলোর (বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ড) সমৃদ্ধিতেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে অঞ্চলটি। বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে ভারত সরকারও। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কানেক্টিভিটি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে দেশটি। জাইকা, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এসব বিনিয়োগ করা হচ্ছে। নানা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কানেক্টিভিটি সংশ্লিষ্ট একের পর এক প্রকল্প।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে ধুবড়ি-ফুলবাড়ি সেতু হতে যাচ্ছে ভারতের দীর্ঘতম সেতু। এটি নির্মাণ হলে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ভারত হয়ে সড়ক চলাচল সহজ হয়ে আসবে। প্রক্ষেপণ রয়েছে, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষে সংশ্লিষ্ট সড়কটির ওপর দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে চলাচলকারীর সংখ্যা গড়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে বার্ষিক পণ্য পরিবহনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ১৮ লাখ টনেরও বেশিতে। এছাড়া ধুবড়ি থেকে ফুলবাড়ি পর্যন্ত যাতায়াতের পথ ৮ ঘণ্টা থেকে মাত্র ২৩ মিনিটে নামিয়ে আনবে সেতুটি। ধুবড়ি-ফুলবাড়ি সেতু নির্মাণ শেষ হলে এর দুই পাশে বাজার ও সেবা খাতের ব্যাপক প্রসার হবে বলে আশাবাদী খাতসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে গ্রামীণ কৃষিপণ্যের বাজার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতেরও ব্যাপক উন্নয়নের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ভারতীয়রা দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেখে সবচেয়ে সমৃদ্ধ কিন্তু সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে। অঞ্চলটির পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে এখানকার অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অনুন্নত অবকাঠামো ও দেশটির বাকি অংশ থেকে কিছুটা ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতাকে দায়ী করা হয়। দীর্ঘদিন পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য এলাকার সড়ক ও রেল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন’স নেক নামে অভিহিত সংকীর্ণ একটি করিডোর। সমুদ্র সংযোগ বিচ্ছিন্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য সবচেয়ে কাছের বন্দর ছিল কলকাতা বন্দর। সেখান থেকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোয় পণ্য পরিবহন করতে দীর্ঘ পথ ঘুরে শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। এ পরিস্থিতি এখন বদলাতে শুরু করেছে বাংলাদেশের দেয়া ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার সুবাদে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ পাচ্ছে ভারত। একই সঙ্গে কানেক্টিভিটির মাধ্যমে ভারতের অন্য এলাকাগুলোর সঙ্গে উত্তর-পূর্বের আট রাজ্যের যোগাযোগও সহজ হয়ে এসেছে। এ বিষয়টিই উত্তর-পূর্ব ভারতের আট রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়ার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে এখানে বাংলাদেশেরও লাভবান হওয়ার বড় সুযোগ দেখছেন তারা।

উত্তর-পূর্ব ভারতে জাইকার বড় বিনিয়োগের পেছনে প্রধানত অর্থনৈতিক চিন্তাই বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এখানে প্রধানত নিজের বিনিয়োগের রিটার্ন ঠিকমতো আসছে, সেটাই জাইকার প্রধান দেখার বিষয়। তবে আমার মনে হয় না, শুধু কানেক্টিভিটির মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে উন্নত করা যাবে। এখানে যা দেখা দরকার, সেটি উত্তর-পূর্ব ভারতের উদ্যোক্তাদের উত্থানের কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে কিনা। ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে পণ্য উৎপাদন করে বা বাংলাদেশকে নিজের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যবসা করতে দেয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন হবে। শুধু কানেক্টিভিটি দিয়ে তা হবে না। অনেক সময় কানেক্টিভিটি সমস্যা তৈরি করে। দেখা গেল ওই কানেক্টিভিটির কারণে মাড়োয়ারি বা গুজরাটি ব্যবসায়ীরা বাইরে থেকে গিয়ে লাভবান হচ্ছে। উত্তর-পূর্বের ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারছে না। স্বাভাবিকভাবেই সেটা তাদের পছন্দ নাও হতে পারে। তাদের নিজস্ব একটা ব্যবসার প্রকৃতি আছে। রাস্তা বানিয়ে দিলে দেখা গেল, সেখানে আম্বানি চলে এল। কিন্তু উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে নতুন কোনো আম্বানি বেরিয়ে এল না। এজন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে সেখানকার ভৌগোলিক প্রতিবেশীদেরই যুক্ত করা জরুরি। এমনকি ভারতের মধ্যেও এমন কথা রয়েছে, চীনকেও যদি সেখানে কাজ করতে দেয়া হয়; তাহলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নত হবে। কারণ চীনে উত্তর-পূর্ব ভারত সীমান্তের ওপারের এলাকা কিন্তু উন্নত। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনকে সেখানে যুক্ত করা আদতে সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশকে যদি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা যায়, তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারত দ্রুত উন্নত হবে।

বাংলাদেশ-ভারত করিডোরের উন্নয়ন এ বিনিয়োগের অন্যতম বড় উদ্দেশ্য বলে জাইকার ভারত দপ্তরের প্রধান সাইতো মিত্সুনারির এক সাম্প্রতিক নিবন্ধে উঠে এসেছে। ওআরএফ ফাউন্ডেশন প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উত্তর দিকে ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে কানেক্টিভিটি তৈরির যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যকার করিডোরের উন্নয়নে এখন জোর দেয়া হচ্ছে। ত্রিপুরার কৈলাশহর থেকে খোয়াই পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়ন ও নির্মাণের মাধ্যমে এতে অবদান রাখছে জাইকা। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য খুবই সীমিত। জনসাধারণের চলাচল ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট এলাকার আর্থসামাজিক খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। ২০১৯ সালেও এ সড়ক দিয়ে বছরে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ। পণ্য পরিবহন হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ টন। ২০২৬ সালের মধ্যেই এখান দিয়ে যাত্রী সংখ্যা ৪৭ লাখে পৌঁছবে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৩৩ লখ টনে। এছাড়া বাংলাদেশেও রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত সেতু নির্মাণে সহযোগিতা করছে জাইকা। আবার দুই দেশের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ট্রাফিক অব্যাহত রাখতে রামগড় থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে সহযোগিতা করছে ভারত। এর বাইরেও বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বাড়াতে কাস্টম ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সহযোগিতা করতে ১৭ কোটি ডলারের একটি আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। এছাড়া বাংলাদেশ সীমান্তে রামগড় শুল্ক দপ্তর নির্মাণেও সহযোগিতা করছে বিশ্বব্যাংক, যা ভারত সীমান্তে সাবরুমের সঙ্গে সংযুক্ত। এ সাবরুম অবস্থিত ভারতের ২০৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কের দক্ষিণ প্রান্তে। আঞ্চলিক কানেক্টিভিটিতে জাপান-ভারত ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণের বড় একটি উদাহরণ প্রকল্পটি।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল গড়ে উঠেছে আটটি রাজ্য নিয়ে। এ আট রাজ্যকে ‘সেভেন সিস্টার্স (আসাম, অরুণাচল, মনিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা) অ্যান্ড ওয়ান ব্রাদার (সিকিম)’ নামেও অভিহিত করা হয়। গোটা ভারতে জাতিগত ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এ অঞ্চলেই। এ আট রাজ্যকে ধরা হয় ভারতের ভূরাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক সীমান্তের ৯৮ শতাংশই আন্তর্জাতিক, যার মোট পরিমাণ ৫ হাজার ১৮২ কিলোমিটার। এসব সীমানা রয়েছে বাংলাদেশ, চীন, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে। বাকি ২ শতাংশ সীমানা রয়েছে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে। অঞ্চলটির মোট আয়তন ২ লাখ ৬২ হাজার ২৩০ কিলোমিটার, যা ভারতের মোট আয়তনের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য থাকলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকে অঞ্চলটি পিছিয়ে। দারিদ্র্যও রয়েছে। সাড়ে চার কোটি জনসংখ্যার অঞ্চলটিতে জাতিগোষ্ঠী রয়েছে ২২০টি। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ক্ষমতাকাঠামোর দিক থেকে প্রতিটি রাজ্যই একে অন্যের চেয়ে ভিন্ন। আবার পার্বত্য ও বনভূমি নিয়ে গঠিত রাজ্যগুলোয় পাহাড়ি ও সমতলের বাসিন্দাদের মধ্যেও অবকাঠামোগত নানা বৈষম্য দেখা যায়।

অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে হলে বাংলাদেশকে শুধু উত্তর-পূর্ব নয়, গোটা ভারতের কথাই মাথায় রাখতে হবে বলে মনে করছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, জাইকা মনে করছে, কানেক্টিভিটি তৈরি হলে ব্যবসার সুযোগ বাড়বে। এছাড়া বিষয়টিকে তারা এখন চীনের প্রভাব খর্ব করার কাজে ব্যবহার করতেও আগ্রহী। সেখানে ভারত ও জাপানের মধ্যে একধরনের সহযোগিতার জায়গা রয়েছে। আমরাও যেহেতু মাঝখানে আছি, তাতে আমরাও লাভবান হতে পারি। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা জাপানকেও চাই। ভারতের সহযোগিতাও চাই। আমাদের বিকল্পগুলো সবসময় খোলা রাখতে হবে। আমরা যাতে চীনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ভারতকে ক্ষুব্ধ না করি। আবার জাইকার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে চীনের দুয়ার বন্ধ করে দিলাম, এমনটাও যেন না হয়—এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। উত্তর-পূর্বের কানেক্টিভিটির কারণে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই বলে আমি মনে করি। ওখানে জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে চার কোটি। বেশির ভাগেরই অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, সর্বভারতীয় চেহারাটা আমাদের মনে রাখতে হবে। এখানকার সাড়ে ৪ কোটি লোকের চেয়ে সার্বিক ১০০ কোটি লোকের বাজার যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে তা বেশি ভালো হবে।

সূত্র: বণিক বার্তা

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: জাইকা, বাংলাদেশ, ভারত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + 14 =

আরও পড়ুন