ভারী বর্ষণে বান্দরবানে বন্যার আশঙ্কা

fec-image

গত দুইদিনের টানা ভারী বর্ষণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড় ধসের পাশাপাশি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদ স্থানে যেতে মাইকিং করছেন প্রশাসন। সেই সাথে সাত উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাস করছে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার।

সোমবার (১ জুলাই) সকাল থেকে টানা ভারী বর্ষণের কারণে চিম্বুক ১২ মাইল সড়কে পাহাড় ধসে যানচলাচল বন্ধ থাকলেও পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন মাটি সরানো পর সড়ক সচল অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়াও থানচি তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মাঝিড়ি এলাকায় নৌকা পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। তবে নেটওয়ার্কবিহীন এলাকা হওয়াতেই এখনো তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। এর আগে গত পরশু নাইক্ষ্যংছড়ি ফুলতলী এলাকায় পাহাড় ধসে একজন নিহত হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে ২২০টি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত সকলকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস মাইকিং করে সতর্ক করছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১৯ মিলিমিটার ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড রয়েছে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও চট্টগ্রামে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তাছাড়া ভারী বর্ষণ জনিত কারণে পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমধসের সম্ভাবনা রয়েছে।

বান্দরবানের সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারও মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। জেলা সদরের উজানী পাড়া ও মধ্যম পাড়া এলাকায় সাঙ্গু নদী তীরবর্তী পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেসব বাড়িতে বসবাসরত নিরাপদ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। রুমা সড়কের কৈক্ষংঝিড়ি ও বটতলী পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে বিদ্যুৎ ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক ধস রোধ মোকাবিলা, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখা, স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রাখা, বন্যা কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে খাবার সংগ্রহ করার ব্যবস্থা আগেই প্রস্তুতি সেরেছে প্রশাসন। তবে আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোতে কোন মানুষ আশ্রয় নিতে দেখা যায়নি। তবে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে শহরের নিম্নাঞ্চল।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, বান্দরবানে গত দুইদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে প্রশাসন পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তাছাড়া বন্যার মোকাবেলা করতে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের লোকজন মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা, বান্দরবান, ভারী বর্ষণ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন