টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। গতকাল রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচিতে তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বান্দরবান-থানচি সড়কে পাহাড়ধসে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, বান্দরবান-থানচি সড়কে পাহাড়ধসে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে নদীপথে যাতায়াত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
