ভাসানচরের পথে দ্বিতীয় দফায় রওনা হয়েছেন ১৮০৪ জন রোহিঙ্গা

fec-image

স্বেচ্ছায় এবার ভাসানচরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন ৪২৮ পরিবারের ১৮০৪ জন রোহিঙ্গা। সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৯টি বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করেছেন তারা উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে এবার রোহিঙ্গা নিজ উদ্যোগে যাত্রা করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতি ১০টি বাসের অন্তর অন্তর একটি করে পুলিশের গাড়ি এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত রয়েছে।

গোয়েন্দাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বিশেষে নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ১৩ বাসে ৫৯৫ জন, ২টা ১০ মিনিটে ১১ বাসে ৫৩৯ জন, ৫টা ১০ মিনিটে ১৫ বাসে ৬৭০ জনসহ ৪২৮ পরিবারের মোট ১৮০৪ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে গাড়ি গুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের মালামাল নিয়ে ১১টি কার্গো এবং ট্রাক গাড়ি বহরে যুক্ত রয়েছে।

এর আগে রোববার বিকেলে ও সোমবার সকালে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্টে নিয়ে এসে রাখা হয়। তাছাড়া ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা ট্রানজিট পয়েন্টে আসতে শুরু করে। আজ সকালেও এ ধরনের অনেক রোহিঙ্গা পরিবার পায়ে হেটে ট্রানজিট ক্যাম্পে এসেছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

উখিয়ার কুতুপালংয়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ক্যাম্পের মাঝিরা বলেন, গতবারের উল্টো এবারের চিত্র। ওই সময় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে অনেক বোঝাতে হয়েছে। কিন্তু ২০ দিনের মধ্যে চিত্র পাল্টেছে। এবার রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে নিজেরাই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ভাসানচরে ৪ ডিসেম্বর যাদের আত্মীয়স্বজন গেছে, তাদের কাছে সুযোগ-সুবিধার খবর শুনেই অনেকেই যেতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছে।

সূত্রে জানা যায়, উখিয়া ও টেকনাফের তালিকাভুক্ত ক্যাম্প ছাড়া বাকি সব ক্যাম্প থেকেই রোহিঙ্গারা সেচ্ছায় ভাসানচরে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে উখিয়ার কুতুপালং-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৮ ডব্লিউসহ থাইংখালী ১৩ নাম্বার ক্যাম্প থেকে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার সোমবার ভাসানচরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মঙ্গলবার ভাসানচর পৌঁছাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ইস্ট)’র এক মাঝি বলেন, আমার ব্লক থেকে কয়েকটি পরিবার ভাসানচরে যাচ্ছে। তাদের কাউকে জোর করা হয়নি। তারা নিজের খুশিতে ভাসানচর যেতে রাজি হয়েছে।

একই ক্যাম্পের সাবেক মাঝি নুর মোহাম্মদ বলেন, এ ক্যাম্প থেকে আবদুস সালাম ও আবুল হাশেম মাঝির পরিবারসহ বেশকিছু পরিবার নোয়াখালীর ভাসানচরে রওয়ানা দিয়েছে। প্রথম দফায় যারা গেছে, তাদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধার খবর জেনেই নতুন করে তারা ইচ্ছা পোষণ করেছে।

ক্যাম্প ২৬ এবং ২৭ এর ইন-চার্জ খালিদ হোসেন বলেছেন “ক্যাম্প ২৬ থেকে আজ ২৩ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে”। এভাবে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা সেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছে পোষণ করেছেন।

রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দফা ভাসানচর যাত্রা নিয়ে উখিয়ার ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভাসানচরের পথে চট্টগ্রাম থেকে চূড়ান্তভাবে জাহাজে না উঠা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের যাত্রা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। প্রথমবার যেভাবে সময়মতো গণমাধ্যমকে সবকিছু জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, পরবর্তী ধাপেও একইভাবে জানানো হবে।

উল্লেখ্য যে, গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গা ভাসানচরে গেছে। এর আগে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে সমুদ্র উপকূলে আটক আরও তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 6 =

আরও পড়ুন