ভিত্তি প্রস্তরের এক বছরেও শুরু হয়নি রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ কাজ

fec-image

গত বছরের ৩০ আগস্ট ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল বান্দরবানের রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের। আর ক’দিন পর পূর্ণ হবে ১বছর। কিন্তু এখনো শুরু হয়নি নির্মাণ কাজ। কবে নির্মাণ কাজ শুরু হবে তাও জানেনা স্থানীয়রা। তবে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ ও ঠিকাদারের আশ্বাস শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৩কি.মি দূরে রুমা উপজেলা। সদর উপজেলার ১নং পাইন্দু ইউনিয়নে এই রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৮৯ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দূর্গম এই উপজেলার পাহাড়ি-বাঙ্গালী পরিবারের শিশুদের শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে বহুকাল ধরে নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সনে এই বিদ্যালয়টির ৬তলা ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শণে ভিত্তি প্রস্তর ফলকটি ছাড়া নির্মাণ কাজের কোন সরঞ্জাম দেখা যায়নি প্রকল্প এলাকায়। স্কুলের পার্শ্ববর্তী কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঠিকাদারের গাফেলতিকেই দায়ী করছেন। তাদের মতে, স্কুল ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে নতুন পরিবেশ পাবে শিক্ষার্থীরা। এতে করে দুর্গম এই পাহাড়ি উপজেলায় শিক্ষার ব্যাপক উন্নতি হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘‘নির্বাচিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই কাজের বরাদ্দ নির্ধারণ ছিল সাড়ে ৬ কোটি টাকা। কার্যাদেশের পরিকল্পনা মোতাবেক প্রকল্পে আবাসিক হল, প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন, ডিজিটাল শ্রেণী কক্ষ, শিক্ষা ও ক্রিড়া সামগ্রীসহ আসবাবপত্র সরবরাহ ও খেলার মাঠ নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এর আগে ২০০৬-১৭ অর্থবছরে কাজটির দরপত্র আহ্বান করা হলে এমএম ট্রেডার্স এর নামে কাজটি পান বান্দরবানের ঠিকাদার জাফর আলম। নিলামের পর ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়েছে তাকে।

এই প্রসঙ্গে বান্দরবান শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, পুরনো স্কুলের জায়গায় নতুন ভবন হবে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ পুরনো ভবনটি ভেঙ্গে নিলামে না দেওয়ার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা এছাড়া করোনার প্রভাবও রয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ বলেন, গেল ফেব্রুয়ারীতে কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন পরীক্ষার জন্য ক্লাস রুম সংকট থাকায় কাজ শুরু হয়নি। পরে করোনা মহামারীর জন্য কাজ আরও পিছিয়ে যায়।

এদিকে নির্মাণ কাজের ঠিকাদার জাফর আলম বলেন, কাজের ওয়ার্ক অর্ডার তিনি পেয়েছেন। কিন্ত করোনাসহ পুরনো স্কুল ভবনের কিছু সমস্যার কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কাজ শুরু করবেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × one =

আরও পড়ুন