“ভূষণছড়া গণহত্যার প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি”

fec-image

মঙ্গলবার (৩১ মে) ঐতিহাসিক ভূষণছড়া হত্যাকাণ্ড দিবস। যে হত্যাকাণ্ডের শুধু বেঁচে ছিল একটি প্রাণী (কুকুর)। পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগঠিত হত্যাকাণ্ড গুলোর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য, বৃহৎ এবং ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হচ্ছে ভূষণছড়া হত্যাকাণ্ড। ১৯৮৪ সালের এই দিনে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাঙালিরা এই নির্মম এবং জঘন্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র অঙ্গ সংগঠন শান্তিবাহিনীর হাতে বাঙালিরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। উল্লেখ্য যে, এই শান্তিবাহিনীর হাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা অসংখ্যবার হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে রাজনগর হত্যাকাণ্ড, পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ড, মাটিরাঙ্গা হত্যাকাণ্ড এবং ভূষণছড়া হত্যাকাণ্ড অন্যতম।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকশত বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও ভূষণছড়া গণহত্যার মতো কোন ঘটনা খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেদিন তাদের নৃশংসতা ১৯৭১ সালের পাক বাহিনীর নৃশংসতাকেও হার মানায়। ১৯৮৪ সালের ৩০ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ভোর ৪টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাঙালিদের উপর এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। যার মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হত্যা করা হয়েছে চার শতাধিক বাঙালিকে আর আহত করা হয়েছে হাজার হাজার বাঙালিকে। নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় গোটা একটি জনপদ। তাদের হত্যাকাণ্ডে এতটাই তীব্র ছিল যে, ভূষণছড়ায় সেদিন একটি অগ্নিদগ্ধ কুকুর ছাড়া আর কোন প্রাণীকে জীবিত পাওয়া যায়নি।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভূষনছড়া গণহত্যাসহ অসংখ্যবার বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরীহ বাঙালিরা। কিন্তু এসকল গণহত্যার কোনটিরও সুষ্ঠু বিচার পায়নি অন্যায়ভাবে গণহত্যার শিকার হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ মনে করে এধরণের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান পার্বত্য চট্টগ্রামে সংগঠিত সকল গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি নিশ্চিত করুন।

” পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ”-এর পক্ষ থেকে ১৯৮৪ সালের ৩১ মে গণহত্যার শিকার হওয়া সকলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + 9 =

আরও পড়ুন