মনগড়া ভাড়া আদায় করছে কক্সবাজারের টমটম চালকরা

fec-image

কক্সবাজার শহরে দিন দিন বেড়েই চলছে টমটম চালকদের নৈরাজ্য। যেখানে পার্কিং, ওভার টেকিং, যাত্রীদের সাথে অসাদাচরণ, তুচ্ছ অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কথা বলার কোন সুযোগ নেই যা মন চায় তা বলছে চালকরা। শহরের বাহিরে থেকে আসা সাধারণ ভদ্রলোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকাও দাবি করে বলে জানান ঢাকার আশুলিয়া থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক শাহিনুর রহমান শাহিন।

এছাড়া অবৈধ টমটমের অভিযোগ তো আছেই। অথচ এ বিষয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বহু যাত্রী অভিযোগ করে জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা আবার ১০টাকার ভাড়া ২০ টাকা দাবি করে টমটম চালকরা। এ নিয়ে প্রায়শই চালকদের সাথে যাত্রীদের কথা কাটাকাটিসহ হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। শুধু অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নয়, তুচ্ছ যে কোন বিষয় নিয়েই টমটম চালকরা যাত্রীদের উপর চড়াও হয়। এমনকি প্রতিবাদ করলে নাজেহাল হয়ে হামলারও শিকার হয়েছে।

বিশেষ শহরের পাহাড়তলী, ঘোনারপাড়া, সমিতিপাড়া ও বাসটার্মিনাল এলাকার টমটম চালকরা যাত্রীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন টমটম চালকরা অনেকটা আনাড়ি এবং অদক্ষ। তাদের কাছে গাড়ির সাথে রামদা ও চাকু থাকে। সুযোগ বুঝে ছিনতাইও করে তারা।

জানা যায়, কক্সবাজার পৌর এলাকার যে কোন স্থানে উঠা নামার জন্য ৫ টাকা ও পৌর এলাকার যে কোন স্থান থেকে শহরতলী বাসটার্মিনাল পর্যন্ত ১০ টাকার ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। চালকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত করেন পরে তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এবং কক্সবাজার শহরের বহিরাগত আসা লোকদের থেকে যেখানে ভাড়া নেওয়ার কথা ৫টা সেখানে ভাড়া আদায় করছে চালকরা ২০ টাকা আবার কারো থেকে ১০ টাকা। আবার সামান্য বৃষ্টি হলেই দেখা যায় তারা একই অবস্থা সৃষ্টি করে। শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে একই অবস্থা দেখা যায়।

চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ টাকার ভাড়া নিচ্ছেন ১০ টাকা আবার কারো থেকে ২০ টাকা আবার রাত ১০টা বাজার সাথে সাথে নতুন আর এক নিয়ম চালকদের ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা আবার ১০ টাকার ভাড়া যেখানে সেখানে ২৫/৩০ টাকা। চালকদের এই কথা জিজ্ঞেস করলে তারা কক্সবাজার পৌরসভার হুকুম বলে আবার কেউ কেউ বিদ্যুৎ এর সমস্যা দেখায়। কিন্তু যাত্রীদের দাবী, উঠানামা করলেও ১০ টাকা দিতে হয় ভাড়া।

অথচ আগে ৫ টাকা ছিল এরকম ভাড়া। কিন্তু টমটম চালকরা বিদ্যুৎ, গাড়ির অতিরিক্ত দাম, লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি, নবায়ন ফি ও রাস্তা খারাপ এর অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। শহরের বাজারঘাটা মসজিদ রোডের টমটম যাত্রী সালাহ উদ্দিন বলেন, আমি প্রতিদিন বাজারঘাটা থেকে লালদীঘিপাড় আসি ৫ টাকা দিয়ে। কিন্তু এখন হঠাৎ ৫ টাকা কোন নিচ্ছেনা। উঠানামা ১০ টাকা বলে হাতিয়ে নেয়। কিছু বললেই আমাদের উপর চড়াও হয়। তাই নিজের সম্মানের ভয়ে আমরা কোন প্রতিবাদ না করে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হই।

একই রোডের সাফওয়ান আজিজ বলেন, রাত ১০ টা হতে না হতেই ৫ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা আবার কখনো কখনো ২০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে চালকরা এ ব্যাপারে পৌর সভার কোন সিষ্টেম করছেন না বলে তিনি দু:খ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে টমটম, চালক রায়হান উদ্দিন জানান, শহরের রোড ভাঙা। চার্জ ভাড়াও বেশি তাই এখন আগের মতো ৫ টাকার ভাড়া নেই। আবার টমটমের কথিত সমিতি ও বিভিন্নজনকে চাঁদা দিতে হয়। পৌরসভার বেধে দেয়া ভাড়ার নির্দেশ কেন মানছেনা সেই জবাবে বলেন, পৌরসভার ভাড়া তালিকায় আমাদের হয়না তাই মনগড়া ভাড়া নিচ্ছি।

পৌর মেয়রের ঘোষণার পরও কক্সবাজার শহরে টমটমের ভাড়া ৫ টাকা শতভাগ কার্যকর হচ্ছেনা। অথচ পৌর সভার মেয়রের ভাড়ার তালিকা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবারও পৌর এলাকার ভেতরে ১০ টাকা করেই ভাড়া নিয়েছে অধিকাংশ চালক। উল্টো সরকারি ও পৌর মেয়রের নির্দেশনা অমান্য করে টমটম চালকদের হাতে তাদের তৈরি করা মনগড়া ভাড়া দিতে হচ্ছে। আর এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে পৌর এলাকার ভেতর টমটম চালকদের সাথে যাত্রীদের
বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছেন পৌরবাসী।

সূত্র জানায়, গত ১০ বছরে ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক ব্যক্তি নানা নামে সংগঠন আত্মপ্রকাশের নামে চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করলেও বিগত পৌর প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে কোনো সংগঠনই সফল হতে পারেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক টমটম চালক বলছেন, টমটম চলাচলের অনুমতি দিয়েছে পৌর এলাকায় ভাড়া নির্ধারণ করবে পৌর কর্তৃপক্ষই। যেখানে পৌরসভার মেয়র বলছেন ৫/১০ টাকা ভাড়ায় চলবে টমটম। অপরদিকে কিছু ভুইফোড় টমটম মালিক-চালকদের সংগঠনের নামে পৌরসভার সিদ্ধান্তের প্রতি বৃদ্ধাংগুলী প্রদর্শন করে তারা নিজেরা একটি মনগড়া ভাড়া তালিকা তৈরী করে চালকদের ব্যবহার করছে। ওই তালিকা অনুযায়ী যাত্রীদের নিকট থেকে ভাড়া আদায় করছে।

কক্সবাজার শহবাসী ও পর্যটকদের অনুরোধ টমটম যেন কিছু কম চলাচল হয় কারণ অনেক যানজট সহ নানাভাবে ভোগান্তিতে ভুগছেন মানুষ, তাদের অত্যাচারে মানুষ খুবই কষ্টসাধ্যে আছেন। কক্সবাজার পৌর মেয়রের কাছে অনেকেই টমটম নিয়ে অভিযোগ করেছেন কিন্তু কোন অভিযোগ এর শান্তনা পাননি শহরবাসী।

এদিকে মনগড়া তালিকা দিয়ে ভাড়া আদায় করায় যাত্রীদের সাথে দিনভর বাকবিতন্ডার লেগেই থাকে। এ অবস্থায় টমটম ও অটো রিক্সার ভাড়া নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, টমটম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 − six =

আরও পড়ুন