মর্যাদাপূর্ণ রোকেয়া পদক পেয়ে উচ্ছ্বসিত ঋতুপর্ণা চাকমা


ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ রোকেয়া পদক পেয়েছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার হাতে এ পদক তুলে দেন।
রোকেয়া পদক পাওয়ার অনুভূতি নিয়ে ঋতুপর্ণা বলেছেন, ‘যে কোনো পুরস্কার বা সম্মাননা আমার জন্য অনেক বড় বিষয়। এটি আমাকে অনেক উৎসাহ দেয়। এই প্রথম কোনো ফুটবলার রোকেয়া পদক পেল, তাই এটা আমার কাছে বিরাট সাফল্য মনে হচ্ছে। আমি খুব, খুব খুশি।’
বাংলাদেশে নারী ফুটবলারদের নানা ধরনের সামাজিক বাধার মুখোমুখি হতে হয়। সংগ্রাম করে উঠে আসতে হয় তাদের। এমন বাস্তবতায় ঋতুপর্ণার এগিয়ে চলা অসাধারণ ব্যাপারের চেয়ে কম কিছু নয়। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়— ‘এই পুরস্কার শুধু আমার একার নয়— এটি বাংলাদেশের সব নারীর জন্য অনুপ্রেরণা। এটি আগামী প্রজন্মের ওপর ভালো প্রভাব ফেলবে।’
বেগম রোকেয়া পদকের জন্য নির্বাচিত হওয়া সবচেয়ে কমবয়সী নারী ঋতুপর্ণা। তিনি এমন একটি সম্মানজনক তালিকার অংশ হলেন, যে নারীদের অবদান বাংলাদেশের উন্নতিতে সাহায্য করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহ দিচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্ত নিজের ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, “বেগম রোকেয়া পদক ২০২৫..! জীবনের প্রতিটা পুরস্কার আমার জন্য অনুপ্রেরণা এবং সম্মানের, কিন্তু আজকের এই পুরস্কারটি আমার জন্য স্পেশাল হয়ে থাকবে। আমার জীবনে এগিয়ে চলার পথে যারা অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ দিয়েছেন সবাইকে আমি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।”
ঋতুপর্ণা চাকমা বাংলাদেশের তারকা নারী ফুটবলার। তার জোড়া গোলের কারণেই বাংলাদেশ শক্তিশালী মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলবে। শুধু এশিয়া কাপই নয়, ঋতুপর্ণার গোলেই গত বছর সাফ ফাইনালে বাংলাদেশ নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সামাজিক ও পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ঋতুপর্ণা এখন শুধু ক্রীড়াঙ্গন নয় পুরো দেশেরই অন্যতম এক আদর্শে পরিণত হয়েছেন। তাকে ‘নারী জাগরণ ক্রীড়া বিভাগে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

















