মহেশখালীতে লবণ প্রতি কেজি ৪ টাকা! ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

fec-image

মহেশখালীসহ উপকুলীয় বিভিন্ন উপজেলায় লবণের মোকামে লবণ থাকার পর ও বিদেশ থেকে লবণ আমদানীসহ নানা কারনে দিন দিন মূল্য কমে যাচ্ছে লবণের। ধ্বস নেমেছে লবন বিক্রিতে। এতে করে সংকটে পড়েছে প্রান্তিক লবণ চাষীরা।

চরম হতাশায় এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল মহেশখালী কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের ৫৫ হাজার চাষীসহ ৫ লাখ মানুষ। যারা দেশের মানুষের লবণের চাহিদা মিটিয়ে জীবন-যাপন করে থাকে।

৬০ হাজার একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই শিল্প কক্সবাজারের মহেশখালীসহ উপকূলীয় উপজেলায় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ভাল নেই লবণ শিল্পের সাথে জড়িতরা। লাগামহীনভাবে লবণের দাম কমে যাওয়ায় খুবই ক্ষতিগ্রস্থ লবণচাষীরা।

লবণের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার দাবীতে লবণ চাষী বাচাঁও পরিষদ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে গতকাল।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি)তাদের ব্যানারে মহেশখালীতে বিকালে এক সংবাদ সম্মেলণ করা হয়েছে। এতে সংগঠনের আহবায়ক আলহাজ সাজেদুল করিম বলেন, মাঠ পার্যায়ে এক মন লবণ উৎপাদন করতে ব্যায় হয় ৩’শ টাকা। সে লবণ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। অথচ এক মাস আগেও প্রতি মণ লবণ বিক্রি হয়েছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায়। এতে লাভ’ত দুরের কথা গুনতে হয়েছে লোকসান।

তিনি আরও বলেন, এ ক্ষতি’র জন্য চাষীরা দায়ী করছেন অসাধু মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ও চাহিদা পূর্ণ থাকার পরেও বিদেশ থেকে লবণ আমদানিকে। এ অবস্থায় প্রান্তিক লবণ চাষী ও মালিকদের দাবী লবণের মূল্য আগের মতই রাখা হউক। যাতে করে লবণ শিল্প বেঁচে থাকে আর এই শিল্পের সাথে জড়িতরা রক্ষা পায়।

যদি দ্রুত সময়ে লবণের নায্য মুল্য নিশ্চিত করা না হয় ,তা হলে মহেশখালীসহ সারা দেশে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্বারকলিপিসহ নানা কর্মসুচি পালন করা হবে বলে জানান লবণ চাষী বাচাঁও পরিষদ।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা লবণের ন্যায্যমূল্য পেতে প্রধানমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। লবণ চাষী বাচাঁও পরিষদের সদস্য সচিব মহেশখালী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক এহছানুল করিম জানায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে মণ প্রতি লবণের দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪’শ থেকে ৪’শ ৫০ টাকায়।

২০১৮-২০১৯ সালে তা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায়। কিন্তু মাঠে মণ প্রতি লবণ উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৩’শ টাকা। এখন প্রতি কেজি লবণের দাম পাচ্ছে ৪টাকা করে।

মহেশখালীর প্রান্তিক লবণ চাষীরা জানান, মণ প্রতি ৫’শ টাকা থাকা লবণ ১৮০ টাকায় নেমে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্টে আছি। আমি ঋণ নিয়ে এ চাষ শুরু করছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঋণ শোধ করতে পারিনি। তার মতে এর জন্য দায়ী কিছু অসাধু মিল মালিক। যারা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম কমিয়ে ফেলেছে। আর চাহিদা পূর্ণ থাকার পরেও বেশি লাভের আশায় বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করে দেশি লবণের সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সভাপতি এডভোকেট শহিদুল্লাহ চৌধুরী জানান, আগের বছরের লবণের দামের উপর নির্ভর করে চাষিরা অগ্রিম টাকা নিয়ে লবণের মাঠ করছে। এই অবস্থায় যদি ৫’শ টাকার লবণ ১৮০ টাকা হয়, তাহলে চাষীদের মজুরীর টাকা পর্যন্ত উঠবেনা।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছর বিদেশ থেকে লবণ আমদানি না করায় দেশে লবণের দাম ভাল ছিল। চাষিরাও সন্তুষ্ঠ ছিল। কিন্তু চাহিদা পূর্ণ থাকার পরেও ভ্যাট আর কর দিয়ে বিদেশ থেকে লবন আমদানি করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় বিদেশী লবণের সাথে দেশি লবণ মিশিয়ে বিক্রি করছে। আর তারাই লবণের দাম কমিয়ে দিয়েছে। যার ফলে চরম দূরাবস্থায় পড়েছে লবণ চাষী ও মালিকেরা।

লবণ চাষী বাচাঁও পরিষদের সংবাদ সম্মেলণে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ন আহবায়ক সরওয়ার আলম, জাকরিয়া,আব্দু শুক্কর, নুর উদ্দিন মাসুদ, হালিমুর রশিদ, সদস্য বৃন্দ যথাক্রমে আব্দুল মান্নান, ওয়াজেদ আলী মুরাদ, সরওয়ার আলম, আব্দুল হাকিমসহ ৬১ জন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিষয়টি মন্ত্রনালয়কে অবহিত করবেন বলে ও জানান।

কক্সবাজারের ৭ উপজেলা চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, রামু, কুতুবদিয়া, মহেশখালীসহ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ৫৫ হাজার লব চাষীর পাশপাশি এ শিল্পের সাথে ৫ লাখ মানুষ জড়িত। তাদের একমাত্র আয়ের উৎস লবণ চাষ। তাই লবণ চাষী ও মালিকদের ন্যায্যমূল্য প্রদানের মাধ্যমে বাচিঁয়ে রাখতে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, মহেশখালী, লবণ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − fifteen =

আরও পড়ুন