মহেশখালীর মাতারবাড়িতে দ্বীপে শুরু হলো বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ

মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী দ্বীপে শুরু হলো বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ। বাইপাস সড়ক নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকা জলাবদ্ধতা কমে যাবে।

ফলে রোধ করা যাবে যানজট, সড়ক দূর্ঘটনা। পাশাপাশি লোকজন যাতায়াত ও মালামালবাহী যান চলাচলে আর দূর্ভোগে পড়তে হবে না উপজেলাবাসীকে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, কষ্ট লাগবে চিন্তা করে মাতারবাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ্ মাতারবাড়ীর দক্ষিণ রাজঘাট থেকে শুরু করে ফুলজান মুরা, বিল পাড়া হয়ে মগডেইল বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সড়ক পর্যন্ত দীর্ঘ ১ শ’ ৫০ চেইন বিশিষ্ট একটি সড়ক নির্মাণের হাত দিয়েছেন।

সড়কের পূর্ব পাশে হবে গাইড ওয়ালসহ ছোট-বড় ৪টি কালভার্ট। এ সড়কটি নির্মাণের জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু করেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার মাতারবাড়ী রাজঘাট থেকে সাইরার ডেইল পর্যন্ত সড়কটির দু’পাশে রয়েছে বসতবাড়িসহ শত শত দোকান। এ সড়কটি মাতারবাড়ীর প্রধান সড়ক।

বর্তমানে মাতারবাড়ীতে দেশের সবচেয়ে দু’টি বড় কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপিত হচ্ছে। এছাড়া একটি গভীর সমুদ্র বন্দরও স্থাপিত হতে যাচ্ছে। জাপানী সংস্থার জাইকা কোম্পানির মাধ্যমে ১৪ শ’ ১৪ একর অধিগ্রহণকৃত জমিতে ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।

এসব অবকাঠামো নির্মাণের মালামাল সড়কটি দিয়ে  গাড়ি চালকদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মালামালবাহী যানবাহনের কারণে স্কুল, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচল করতে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এমনকি যানবাহনের কারণে এ সড়কে দূর্ঘটনা ও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে পানি নিষ্কাশনের সমস্ত স্লুইচ গেইট কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেওয়ায় গত ২ বছর ধরে পুরো মাতারবাড়ি বর্ষায় ডুবে থাকে।

এতে এলজিএসপি আর এর ব্রিক সলিং কাজ, কর্মসৃজনের মাটির কাজসহ বিভিন্নভাবে নির্মাণ করা সড়ক ভেঙ্গে যায়। বসতবাড়ি ও দোকান ঘরে মজুদ থাকা খাদ্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

এসব দূর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্ত করতে মাতারবাড়ির চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ্ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, এলাকার রাজনীতিবিদ ও সচেতন মহলের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে মাতারবাড়ী দক্ষিণ রাজঘাট থেকে ফুলজান মুরা বিল পাড়া হয়ে মগডেইল বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে কয়লা বিদ্যুৎ পর্যন্ত একটি বাইপাস সড়ক করার প্রস্তাব দীর্ঘদিনের।

এ সড়কটি নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন মাটির কাজ, কালভার্ট ও গাইড ওয়ালসহ প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হবে। আপাতত নিজের উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে মাটি কাটার কাজ শুরু করেছি। সরকার এবং কোল পাওয়ার থেকে এ টাকা সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + fourteen =

আরও পড়ুন