parbattanews

মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে বাদাম চাষে দিন বদলের স্বপ্ন

মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে বাদাম চাষ করে আশাব্যঞ্জক ফলন পেয়েছেন চকরিয়া উপজেলার এক কৃষক। তার এই উদ্যোগ দ্বীপ এলাকায় বিকল্প কৃষির নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে দিয়েছে।

শাপলাপুর ইউনিয়নের দিনেশপুর এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন প্রায় ৩ মাস আগে সোনাদিয়া দ্বীপে বাদাম চাষ শুরু করেন। মোট ৮ কানি জমিতে চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। জমির জন্য কোনো খরচ না হলেও পরিবহণ ও শ্রমিক খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি পড়েছে। কারণ স্থানীয়ভাবে শ্রমিক পাওয়া না যাওয়ায় বাইরে থেকে লেবার আনতে হয়েছে।

বর্তমানে প্রথম দফায় তিনি ২৭৪ কেজি বাদাম বিক্রি করেছেন। আড়তে প্রতি কেজি বাদাম বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়। সব মিলিয়ে লাভ ও লোকসান প্রায় সমান অবস্থায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে প্রথমবার হওয়ায় কিছু ত্রুটি ছিল, যা আগামী মৌসুমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে আশাবাদী কৃষক নুরুচ্ছাফা।

তিনি বলেন, সোনাদিয়া এলাকায় বালুকাময় জমি থাকায় এখানে তরমুজ চাষ হয় শুনেছিলাম। আত্মীয়ের বাড়িতে এসে দেখে মনে হয়েছে, এই জমিতে বাদামও ভালো হবে। তাই পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছি। ফলন খারাপ হয়নি।

তবে বর্ষাকালে পানি জমে গেলে বাদাম চাষে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে বলেও জানান তিনি। সঠিক সময় নির্বাচন করতে পারলে ফলন আরও ভালো হবে বলে মনে করেন এই কৃষক। তার মতে, সোনাদিয়ার জমি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী, পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি অফিসের কোনো সহযোগিতা তিনি পাননি এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগও করেননি বলে জানান নুরুচ্ছাফা। তিনি বলেন, প্রায় ৭-৮ বছর ধরে বাদাম চাষের কাজ করছি। যদি সঠিক সময় আর পদ্ধতি ঠিক করা যায়, তাহলে সোনাদিয়া দ্বীপে ভালো চাষ সম্ভব।

স্থানীয়দের অনীহার বিষয়টিও উঠে এসেছে তার কথায়। তিনি বলেন, এখানকার মানুষ কৃষিকাজে আগ্রহী নয়। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অলসতার কারণে কাজ করে না। ফলে বাইরে থেকে শ্রমিক আনতে হয়।

সোনাদিয়া দ্বীপে প্রথমবারের মতো বাদাম চাষে ইতিবাচক ফলন পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প কৃষি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এবং কৃষকদের সহায়তা করা হলে, এই দ্বীপ এলাকায় বাদামসহ বিভিন্ন ফসল চাষ নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Exit mobile version