মাকে কুপানোর খবর শুনে প্রতিপক্ষ যুবকের উপর লামায় তিন সন্তানের ফিল্মি কায়দায় হামলা

fec-image

মাকে কুপানোর খবর শুনে চট্টগ্রাম থেকে তিন সন্তান লামায় এসে প্রতিপক্ষ যুবকের উপর ফিল্মি কায়দায় হামলা।

গরু কলাগাছ খাওয়ায় ঝগড়ার এক পর্যায়ে মাকে কুপিয়ে আহত করার খবর শুনে চট্টগ্রাম থেকে তিন ছেলে লামায় এসে সাথে আরও ১৫/২০ জন কিশোরকে নিয়ে প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিম নামক এক যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবানের লামা উপজেলা সদর, লামা বাজার চৌরাস্তা মোড়ে রোববার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশ বেলা আড়াইটার দিকে লামামুখ হাইস্কুলের মাঠ থেকে গুরুতর আহত মুমূর্ষ ওই যুবক আব্দু রহিমকে উদ্ধার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী দুই কিশোর ও সহযোগী টমটম ড্রাইভার সহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। বাকী হামলাকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

আহত আব্দুর রহিম (৩৭) লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ছাহ্লাখইন হেডম্যান পাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে। আটক হামলাকারীরা হল, লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড হাসপাতাল পাড়ার কবির হোসেনের ছেলে মো. কাউছার (২০), উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বালুচর পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে মো. বেলাল (২১) ও লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড হাসপাতাল পাড়ার টমটম ড্রাইভার মো. বেলাল (৪৫)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ১৫/২০ জন যুবক সংঘবদ্ধ হয়ে ফিল্মি স্টাইলে এই ঘটনা ঘটায়।

আহত আব্দু রহিমকে পুলিশ লামা হাসপাতালে নিয়ে আসে। আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। লামা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ রোবিন বলেন, আব্দু রহিমের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যুবককে মারধরের ঘটনায় ৩জনকে থানায় আনা হয়েছে। বাকীদের খুঁজছে পুলিশ। আহত আব্দু রহিমের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (২০) বাদী হয়ে মামলা করেছে।

আহত আব্দু রহিমের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমরা পারিবারিক কাজে লামা বাজারে আসছিলাম। বাজারে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে লামা বাজারের গোপাল বাবুর মোড়ে ১০/১৫ জন যুবক সামনে থেকে টেনে নিয়ে আমার স্বামীকে জনসম্মুখে লাথি, ঘুষি ও ইট-লাঠি দিয়ে মারধর করে। মারধরে আমার স্বামীর অজ্ঞান হয়ে গেলে মো. বেলালের টমটমে করে তাকে লামামুখ নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আবারো ইচ্ছেমত মারধর করে মৃত ভেবে ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়। স্থানীয় শতশত মানুষ দেখেও কেউ হামলাকারীদের ভয়ে আমার স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। হামলাকারীরা কয়েকজন সরে গেলে স্থানীয়রা ধান ক্ষেত থেকে আমার স্বামীকে উদ্ধার করে স্কুল মাঠে আনে। এসময় পুলিশ উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ আমার স্বামীকে লামা হাসপাতালে ভর্তি করে ও ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী ২ জন এবং টমটম চালককে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীকে রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বালুচর পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে মো. বেলাল (২০), লামা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড হাসপাতাল পাড়ার কবির হোসেনের ছেলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও লামা থানার ৮টি মামলার দাগী আসামি মো. কাউছার (২০), বালুচর পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে মো. রুবেল (২৮), মো. হেলাল (২৩), একই এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে মো. জাহের (২৭), মো. সোহেল (২৪), মো. ইমন (২৩), মো. জাকের (২১), আবুল হোসেনের ছেলে মো. আলমগীর (২৫), লামামুখ এলাকার মো. হারুণ এর ছেলে আজমির (১৭) সহ ১৫/২০ জন যুবক মারধর করে। আমি বিচার চাই। ‘জনসম্মুখে এমন ঘটনা’ বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার মানুষের মাঝে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে। সকলে দোষীদের বিচার দাবি করেন।

প্রতিপক্ষ আবুতাহের জানান, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বালুচর পাড়ায় বেলাল, হেলাল, রুবেল এর মা ও আমার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে গরু ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধর ও কুপিয়ে আহত করে। হামলার সময় ছেলেরা চট্টগ্রামে ছিল। এই ঘটনার জের ধরে আহত হোসনে আরার তিন সন্তান রাগের মাথায়এই ঘটনার সৃষ্টি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 20 =

আরও পড়ুন