“কাপ্তাই হ্রদে প্রাকৃতিক প্রজননের মাধ্যমে মাছের বংশ বৃদ্ধি ও অবমুক্ত পোনার যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার, বিপণন ও পরিবহন বন্ধে ১ মে থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে আগামী ৩১ জুলাই মধ্য রাত পর্যন্ত।”

মাছধরা বন্ধে মহালছড়িতে জেলেদের দুর্বিষহ জীবন যাপন

fec-image

কাপ্তাই হ্রদে প্রাকৃতিক প্রজননের মাধ্যমে মাছের বংশ বৃদ্ধি ও পোনা অবমুক্ত যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাছ ধরা সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন মহালছড়ির জেলেরা। পাশের জেলা রাঙ্গামাটির মৎস্যজীবীরা ভিজিডি ও ভিজিএফের আওতায় রেশন সুবিধা পেলেও সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মৎস্যজীবীরা।

ফলে আয় রোজগার না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন মহালছড়ির জেলে পরিবারগুলো। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন অনেক জেলে পরিবার। সংসার চালাতেও হিমশিম খাচ্ছে তারা। সরকারি সুবিধা বঞ্চিত জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে চলছে হাহাকার।

কাপ্তাই হ্রদে প্রাকৃতিক প্রজননের মাধ্যমে মাছের বংশ বৃদ্ধি ও অবমুক্ত পোনার যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার, বিপণন ও পরিবহন বন্ধে ১ মে থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে আগামী ৩১ জুলাই মধ্য রাত পর্যন্ত।

১৯৬০ সালের কাপ্তাই বাঁধের পর কাপ্তাই হ্রদে একমাত্র মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা চলে অন্যান্য জেলেদের মতো পার্বত্য খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার জেলে পরিবারদের। মহালছড়ি মৎস্য আহরণ উপকেন্দ্র প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও বাড়েনি জেলে পরিবারগুলোর সুযোগ-সুবিধা। চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থ-বছরে মহালছড়ি উপকেন্দ্রে ৮৬ লাখ ৪৫ হাজার ২৮১ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন মহালছড়ি উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা নাসরুউল্যাহ আহমেদ।

মহালছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রবীণ চন্দ্র চাকমা জানান, মহালছড়ি উপজেলায় সর্বমোট ১২৪৭ জন স্মাটকার্ডধারী জেলে রয়েছে। মাছধরা বন্ধকালীন সময়ে এখন পর্যন্ত কাউকে রেশনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে, বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে অবহিত করা হয়েছে।

মাছ শিকার বন্ধকালীন সময়ে পাশের জেলা রাঙ্গামাটির ন্যায় অবিলম্বে সরকারিভাবে রেশনিং সবিধা চালুর দাবি জানান মহালছড়ির জেলেরা। তারা বলেন, ‘মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আমরা বেকার হয়ে পড়েছি। আমরা কার্ড পাওয়ার পরও খাদ্য সহায়তা পাচ্ছি না। আয়ের উৎস না থাকায় মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন মহালছড়ির চিটাগাং পাড়ার মুসলিম পরিবারের মৎস্যজীবীরা।

মহালছড়ি মৎস্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন মাছ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল খায়ের বলেন, জেলেরা সারা বছর মাছ ধরেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। প্রতি বছর মে থেকে জুলাই তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে এই সময়টাতে জেলেরা খুব কষ্টে থাকে। কারণ তাদের একমাত্র আয়ের উৎস মাছ শিকার করা। তাই মাছ ধরা বন্ধকালীন তাদেরকে সরকারিভাবে ভিজিডি বা ভিজিএফ’র আওতায় খাদ্য সহায়তা প্রদানের কথা থাকলেও কোন সুযোগ সুবিধা তারা পাননা।

এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে বারবার আবেদন করেও কোন সাড়া মেলেনি জানিয়ে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন মহালছড়ি উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা নাসরুউল্যাহ আহমেদ বলেন, ভিজিডি ও ভিজিএফের আওতায় খাদ্য সহায়তা না পাওয়া দুঃখজনক। এ পরিস্থিতিতে মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকাকালীন তাদেরকে মৎস্য ধরা থেকে বিরত রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) একি মিত্র চাকমা জানান ‘মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে রেশন না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 3 =

আরও পড়ুন