মাটিরাঙ্গার বাঙালি গুচ্ছগ্রামে খাদ্যশষ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে পলাশপুর জোন

images

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

দীর্ঘদিনের অনিয়মের বেড়াজাল ভেঙ্গে মাটিরাঙ্গার বাঙালি গুচ্ছগ্রামে রেশন কার্ডধারীদের খাদ্যশষ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে পলাশপুর জোন। অতীতে বাঙালি গুচ্ছগ্রামের রেশন কার্ডধারীদের বরাদ্ধকৃত খাদ্যশষ্যের অনুকুলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কাটিংয়ের নামে ৩ কেজি থেকে ৫ কেজি করে কম খাদ্যশষ্য দেয়া হতো। যা নিয়ে খোদ কার্ডধারীদের অভিযোগের যেন কমতি ছিল না।

অন্যদিকে রেশন প্রদানের নামে বরাবরই হয়রানি করা হতো গুচ্ছগ্রামের সাধারণ কার্ডধারীদের। কখনো কখনো চাল দেয়া হলেও গম না দিয়ে কম মুল্যে টাকা ধরিয়ে দেয়া হতো কার্ডধারীদের। আবার বরাদ্ধকৃত খাদ্যশষ্য যথা সময়ে বিতরণ না করে তা বিক্রি করতে বাধ্য করা হতো কার্ডধারীদের। এমন কি বরাদ্ধকৃত খাদ্যশষ্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চেয়ারম্যানের নির্ধারিত গুদামে গুদামজাত না করেই চট্টগামে বিক্রি হয়ে যেতো। এ অবস্তায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তো স্থানীয় বাজারে।

সম্প্রতি মাটিরাঙ্গার পলাশপুর জোনের অধীন ১০টি বাঙালি গুচ্ছগ্রামে খাদ্যশষ্য বিতরণে অনিয়ম বন্ধসহ তাদের খাদ্যশষ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন পলাশপুর জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ পিএসসি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক খাদ্যশষ্য বিতরণের পুর্বে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চেয়ারম্যানের নির্ধারিত গুদামে বরাদ্ধকৃত খাদ্যশষ্য গুদামজাত করাসহ খাদ্যশষ্য বিতরণে অনিয়ম রোধে খাদ্যশষ্য বিতরণকালে প্রতিটি গুদামে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

তবে দীর্ঘদিন পরে হলেও পলাশপুর জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ পিএসসি‘র সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে জোনের অধীন ১০টি বাঙালি গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীরা তাদের জন্য বরাদ্ধকৃত খাদ্যশষ্য বুঝে পেয়েছেন। এজন্য তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভবিষ্যতেও এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় খাদ্যশষ্য বিতরণে অনিয়মবন্ধসহ স্থানীয় বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে মনে করেন তারা।

বিজিবি যেকোন প্রয়োজনে জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন পলাশপুর জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ পিএসসি। তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনগণের জন্যই বিজিবি আছে।

এদিকে বাঙালি গুচ্ছগ্রামে খাদ্যশষ্য বিতরণে বিজিবি জওয়ানদের সহযোগিতার ফলে সাধারণ জনগণের প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান পলাশপুর জোন অধিনায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিজিবির সহযোগিতা কামনা করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + 6 =

আরও পড়ুন