parbattanews

মাটিরাঙ্গায় গুচ্ছগ্রামের আত্মসাতকৃত খয়রাতি রেশন কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ

21.04.2014_Matiranga NEWS Pic-03

মাটিরাঙ্গা সংবাদদাতা :

অবশেষে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উদ্ধার করা হয়েছে উপজেলার বড়নাল পুরান বাজার গুচ্ছগ্রামের দুই মাসের খয়রাতি রেশন। আত্মসাতের ২০ দিনের মাথায় সোমবার মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: শামছুল হক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. মোহাম্মদ মাহে আলম এর উপস্থিতিতে রেশনকার্ডধারীদের মাঝে রেশন বিতরণ করা হয়েছে। সকাল থেকেই প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ লাইন ধরে রেশন গ্রহণ করেছেন গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীরা।

নিজের রেশন পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মো: মাধু মিয়া বলেন, প্রশাসনের আন্তরিকতা ছিল বলেই আমরা আমাদের রেশন পেয়েছি। একই কথা বলে গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী মো: আবুল কাশেম বলেন, আমাদের রেশন আমরা ফেরত পেয়েছি এখন আর আমাদের কোন অভিযোগ নেই। এসময় দীর্ঘ লাইনে দাড়ানো কার্ডধারীরা প্রকল্প চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই বলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. মোহাম্মদ মাহে আলমকে নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে বড়নাল পুরানবাজার গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান বশির আহাম্মদ বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় যথাসময়ে রেশন উত্তোলন ও বিতরণ করতে পারিনি। আর এ সুযোগে একটি কুচক্রি মহল আমার সামাজিক মর্যাদা নষ্ট ও আওয়ামীলীগের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে আমার বিরুদ্ধে গুচ্ছগ্রামের খয়রাতি রেশর আত্মসাতের মতো জঘন্য অপ্রপচার করেছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. মোহাম্মদ মাহে আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চেয়ারম্যান রেশনের বরাদ্ধপত্র পাওয়ার পর গত ২৮ মার্চ তবলছড়ি খাদ্যগুদাম থেকে কিছু রেশন উত্তোলন করলেও বেশিরভাগ রেশনই খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত ছিল। সম্পুর্ণ রেশন বিক্রির যে বক্তব্য এসেছে তা সত্য ছিলনা।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: শামছুল হক বলেন, প্রকল্প চেয়ারম্যান বশির আহাম্মদ রেশন বিতরণ না করে বিক্রি করে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক ছিলনা। তিনি অসুস্থতাজনিত কারনে এলাকায় ছিলেন না। এ সুযোগে একটি মহল এ অপপ্রচার চালিয়েছে। সব রেশন বিক্রি করা হলে এখন রেশন বিতরনের কোন সুযোগ ছিলনা।

উল্লেখ্য যে, ৩১ মার্চের মধ্যে রেশন কার্ডধারীদের বিতরনের কথা থাকলেও প্রকল্প চেয়ারম্যান বশির আহাম্মদ তা বিতরণ না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন এবং রেশন বিক্রির ২৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। প্রশাসনের উদ্ধার তৎপরতায় রক্ষা করা হয় গুচ্ছগ্রামের ৫২৩ জন কার্ডধারীর অনুকুলে দুই মাসের খয়রাতি রেশন।

Exit mobile version