সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :
অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতা থেকে সরে এসে এ বছর মাটিরাঙ্গায় মহান বিজয় দিবস পালনে ২ দিনের কর্মসুচি চুড়ান্ত করেছে মাটিরাঙ্গা উপজেরা প্রশাসন। নতুন কলেবরে সাজানো হয়েছে এ বছর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালা। পার্বত্যনিউজ’কে এমনটাই বলেছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি এম মশিউর রহমান।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় ২দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা চুড়ান্ত করা হয়।
কর্মসুচির প্রথম দিন ১৫ ডিসেম্বর স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য “স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু” এবং ৯ম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে ছাত্রছাত্রীদের ভুমিকা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসুচির দ্বিতীয় দিন ১৬ ডিসেম্বর রাত বারোটা এক মিনিটের সময় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে কর্মসুচির সুচনা হবে। রাতে মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ। এদিন সাড়ে ৮টায় মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর অনুষ্ঠিত হবে কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়ানুষ্ঠান। পাশাপাশি একই সময়ে মাটিরাঙ্গা বনশ্রী বিদ্যানিরকেতন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ‘মহিলা সমাবেশ’। বিকালে মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভা একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও দুপুরে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মুক্ত মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বিশেষ আয়োজন বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ সরবরাহ করা হবে। একই দিনে সরকারী হাসপাতাল ও বিভিন্ন এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় দেশের কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এছাড়াও এদিন সন্ধ্যায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ২ দিনের কর্মসুচি পালনের সব মহলের সহযোগিতা কামনা করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, এ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। জাতি সম্পুর্ণ ভিন্ন আমেজে মহান বিজয় দিবস পালন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের ব্যবধানে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রকৃত মুক্তির স্বাদ। তিনি বলেন, মহান বিজয় দিবসকে ঘিরে প্রাণের উৎচ্ছাসে নেচে উঠবে মাটিরাঙ্গার আগামী প্রজন্ম।
